প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-প্রায় ২৮ বছর আগে নিজের হাতে তৈরি করা দল এবং তার অতি পরিচিত ‘জোড়া ফুল’ (Flowers and Grass) প্রতীক সাময়িকভাবে খোয়ানোর পর, এবার নির্বাচন কমিশনের দরবারে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার রাশ ও দলের আইনি মালিকানা কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বিবাদ এখন দিল্লির নির্বাচন কমিশন (ECI) দপ্তরে পৌঁছেছে। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর আগামী ৩০ অক্টোবর ২০২৬ (শুক্রবার) দিনটি এই বিবাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডেডলাইন হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে। ওই নির্দিষ্ট দিনের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির এবং বিদ্রোহী অরূপ রায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির—উভয় পক্ষকে নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের সপক্ষে সমস্ত প্রমাণ, হলফনামা এবং আইনি জবাব (Pleadings) পেশ করার অন্তিম সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।

দলের অভ্যন্তরীণ নজিরবিহীন ভাঙনের জেরে গত সেপ্টেম্বর মাসে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের মূল নাম ও সংরক্ষিত ‘ঘাসফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ বা স্থগিত করে দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশে হস্তক্ষেপ না করলেও মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য একটি কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী: উভয় পক্ষকে তাদের দাবি ও বিধায়ক-সাংসদদের সমর্থনের সমস্ত আইনি নথি জমা দেওয়ার জন্য ৪ সপ্তাহ বা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ৩০ অক্টোবর নথিপত্র জমা পড়ার পর, নির্বাচন কমিশনকে আগামী ৩ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত শুনানি শেষ করে রায় দিতে হবে যে ‘আসল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ কোন গোষ্ঠী।

কমিশনের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত গত ৬ অক্টোবরের বিধানসভা উপনির্বাচনে (নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর) দুই পক্ষকে সম্পূর্ণ আলাদা নাম ও অন্তর্বর্তী প্রতীকে লড়াই করতে হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এদের সাময়িকভাবে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ (Football Player) প্রতীক বরাদ্দ করেছে। বিদ্রোহী শিবির (অরূপ রায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়) এই পক্ষ লড়ছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং তাদের প্রতীক হলো ‘খাম’ (Envelope)। আগামী ৩০ অক্টোবর দিল্লির নির্বাচন কমিশন দপ্তরে দুই পক্ষের আইনজীবীরা যখন মুখোমুখি হবেন, তখন কার পক্ষে কত শতাংশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং দলীয় সংগঠনের সমর্থন রয়েছে—তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব নথিসহ টেবিল করা হবে। বাংলার রাজনীতির ভবিষ্যৎ কোন দিকে ঘুরবে, তা নির্ধারণে এই ৩০ অক্টোবরের আইনি লড়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।