প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর মহারণের আগে কি তবে পায়ের তলার মাটি সরছে ঘাসফুল শিবিরের? আজ রেড রোডের পবিত্র মঞ্চকে যেভাবে রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে পরিণত করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাতে রীতিমত স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহলের একাংশ। উৎসবের আবহে সৌহার্দ্যের বার্তার বদলে মুখ্যমন্ত্রীর গলায় শোনা গেল চরম ‘অভিশাপ’ আর কড়া রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি।বিরোধীদের লক্ষ্য করে তাঁর এই বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে বইছে বিতর্কের ঝড়। প্রতি বছরের মত এদিনও রেড রোডের বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সকলকে অবাক করে দিয়ে তিনি সরাসরি আক্রমণ শানান প্রধান বিরোধী দল বিজেপি-র বিরুদ্ধে। কোনো রাখঢাক না করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি চোর, গুন্ডা ও ডাকাতের পার্টি। বাংলাকে যারা টার্গেট করবে তারা জাহান্নামে যাবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের মতে, একটি সামাজিক ও ধর্মীয় মঞ্চ থেকে এই ধরনের কড়া এবং আক্রমণাত্মক শব্দ প্রয়োগ নজিরবিহীন। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বিরোধীদের বাড়তে থাকা শক্তি দেখে তিনি ক্রমশই ধৈর্য হারাচ্ছেন? মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই সরব হয়েছে বিজেপি শিবির। গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্বের দাবি, বাংলার মানুষ জানে প্রকৃত ‘গুন্ডা’ বা ‘ডাকাত’ কারা। সন্দেশখালি থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি— একের পর এক কেলেঙ্কারিতে যখন শাসক দলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা জেলবন্দি থেকেছেন, তখন অন্যের দিকে আঙুল তোলা কি সাজে? বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের পাল্টা দাবি, “যাদের পায়ের তলার মাটি সরছে, তারাই এখন জনসমর্থন হারিয়ে পরোক্ষভাবে অভিশাপের রাজনীতি করছেন।” তাদের সাফ কথা, ২০২৬-এর নির্বাচনে বাংলার মানুষই ব্যালট বাক্সে বুঝিয়ে দেবে কারা ‘জাহান্নামে’ যাবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতার এই ‘জাহান্নাম’ মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ। একদিকে যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির সাঁড়াশি চাপে শাসকদল কোণঠাসা, তখন দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতেই কি এই মেজাজ? তবে সমালোচকদের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য জনমানসে হিতে বিপরীত হতে পারে। যে রাজ্যে উন্নয়নের কথা হওয়ার কথা, সেখানে কেন বারংবার ‘জাহান্নাম’ এর মত শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে আমজনতার মনেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল। সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ের আগে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে রণংদেহি মূর্তি ধারণ করলেন, তাতে এটুকু স্পষ্ট যে, আগামী দিনগুলোতে বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও কয়েক গুণ বাড়তে চলেছে।