প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মুর্শিদাবাদের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র রেজিনগরের উপনির্বাচনী লড়াই মিটতেই এখন কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে ভোটের গোপন পাটিগণিত নিয়ে। ৯ অক্টোবরের মহাগণনার ঠিক আগে জেলার রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়—প্রদেশ কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের চেনা রণকৌশল কি এই কেন্দ্রে আদতে কোনো দাগ কাটতে পারল? গতকালের চতুর্মুখী সমীকরণে কংগ্রেস প্রার্থী যেভাবে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই ময়দানে টিকে থাকার চেষ্টা করেছেন, তা ভোট-পরবর্তী পর্যালোচনায় এক ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। অভিজ্ঞ রাজনৈতিক পণ্ডিতদের একাংশের মতে, রেজিনগরের এই হাইপ্রোফাইল যুদ্ধ আসলে অধীর রঞ্জন চৌধুরী শিবিরের পক্ষে এক চরম রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষা ছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে আগামীর সমীকরণে।
মুর্শিদাবাদ ও মালদার মতো জেলাগুলিতে দীর্ঘকাল ধরে যে চিরাচরিত ভোটব্যাঙ্কের ওপর বিরোধী দলগুলি নির্ভর করে এসেছে, গতকালের উপনির্বাচনে সেখানে এক অভাবনীয় ফাটল দৃশ্যমান হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একদিকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র হুমায়ুন কবীর ফ্যাক্টর, অন্যদিকে ‘ফুটবলার’ ও ‘খাম’ চিহ্নের দুই শিবিরের অন্তর্দ্বন্দ্ব—এই ত্রিমুখী কামড়াকামড়ির মাঝে কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা বিরোধী ভোটকে আড়াআড়ি চার-পাঁচটি ভাগে খণ্ডিত করে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের বহুধা বিভক্ত ভোট কাটাকুটির সরাসরি সুবিধা সবসময় একক ও সুসংহত শক্তির ঝুলিতেই যায়। ফলে রেজিনগরের মাটিতে পদ্ম শিবিরের জয়ের পথ যে অনেকটাই মসৃণ ও চওড়া হয়ে গেল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিগত জমানার চেনা নির্বাচনী হিংসা, বুথ দখল বা বোমাবাজির সংস্কৃতিকে পুরোপুরি উপড়ে ফেলে গতকাল যেভাবে নজিরবিহীন শান্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ বুথে এসেছেন, তা বিরোধী শিবিরের সমস্ত চেনা অঙ্ককে ওলটপালট করে দিয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষ হতেই কংগ্রেস নেতৃত্বের একাংশের তরফ থেকে ‘নীরব সন্ত্রাস’-এর যে তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা করা হয়েছে, তাকে পরাজয় ঢাকার আগাম অজুহাত হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশ্লেষকদের স্পষ্ট দাবি, কোনো প্রচ্ছন্ন ভয় বা ছাপ্পা ভোটের সুযোগ না থাকায় সাধারণ ভোটাররা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত ইভিএমে বন্দি করেছেন। আর বাংলায় সুস্থ ও হিংসামুক্ত ভোটের এই নতুন ধারা গ্রামীণ এলাকার মানুষের মনে নতুন বিজেপি সরকারের প্রতি আস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মুর্শিদাবাদের মতো স্পর্শকাতর রাজনৈতিক উর্বর জমিতে কংগ্রেস নিজেদের জমি পুনরুদ্ধারের যে চালটি চেলেছিল, তা আখেরে অ্যান্টি-বিজেপি ভোটব্যাঙ্ককেই সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত করেছে। ৯ অক্টোবর যখন ব্যালট বাক্স উন্মোচিত হবে, তখন দেখা যাবে বিরোধীদের এই পারস্পরিক শক্তি প্রদর্শনের অহংকার মূলত তাদের নিজেদেরই রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতাকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে। দুই ভাগে বিভক্ত সাবেক শাসক দল এবং কংগ্রেসের এই আত্মঘাতী সংঘাতের জেরে এই কেন্দ্রে বিজেপির পক্ষে এক ঐতিহাসিক ডিভিডেন্ড আসতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজ্য রাজনীতির চাণক্যরা।