প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বাংলায় একটা কথা আছে— ‘ঠাকুরঘরে কে? আমি তো কলা খাইনি!’ ঠিক সেই দশাই হয়েছে আমাদের প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী তথা ঘাসফুল শিবিরের সুপ্রিমোর। ভোট যত এগোচ্ছে, দিদির গলার সুর ততই সপ্তমে চড়ছে। কিন্তু সেই সুরের মধ্যে বীরত্বের চেয়েও হারের আতঙ্কের সুর কি একটু বেশিই প্রকট হয়ে উঠছে না? ইদানীং তিনি জনসভায় দাঁড়িয়ে বলছেন, ‘মা-বোনেরা ভোট পাহারা দেবেন, কারণ দিল্লি নাকি আমাদের জায়গায় রিপোল করার চক্রান্ত করছে!’
মশাই, রিপোল বা পুনর্নির্বাচন কখন হয়? যখন বুথ দখল হয়, ছাপ্পা পড়ে কিংবা ভোটারদের ভয় দেখানো হয়। দিদি আগেভাগেই বুঝে গিয়েছেন যে তাঁর অতি-উৎসাহী ‘ভাইরা’ হয়তো এবারও বুথে একটু বেশি ‘কারিকুরি’ করতে পারেন। আর তাই কেন্দ্রীয় বাহিনী বা কমিশনের কড়া নজরে যদি আবার ভোট নিতে হয়, তবে তো কেল্লা ফতে! চুরির পরিকল্পনা আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে এখন থেকেই ‘দিল্লির চক্রান্ত’ বলে কান্নাকাটি শুরু হয়েছে। ওরে বাবা, চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে শুনেছিলাম, এখানে তো চুরি করার আগেই কাঁদুনি গান শুরু হয়ে গেল!
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের তাঁর প্রিয় সংলাপ আওড়েছেন— ‘সুস্থ বাঘের থেকে আহত বাঘ বেশি ভয়ঙ্কর!’ বাংলার মানুষ তো ভাবছেন, বাঘটা আহত হল কবে? রেশন থেকে নিয়োগ কেলেঙ্কারি— একের পর এক দুর্নীতির পাহাড়ে যখন তাঁর দলের নেতারা জেল খেটেছেন, তখন কি নিজেকে ‘আহত’ সাজিয়ে মানুষের একটু সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি? রাজনৈতিক মহলে হাসিঠাট্টা চলছে, এই ‘আহত বাঘের’ গর্জনের চেয়ে এখন পরাজয়ের গোঙানিটাই যেন বেশি শোনা যাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, তাঁর হাত থেকে নাকি সব ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যে রাজ্যের পুলিশ থেকে প্রশাসন— সব যাঁর আঙুলের ইশারায় চলে, তিনি যখন এমন কথা বলেন, তখন তা যাত্রাপালার ট্র্যাজিক হিরোইনকেও হার মানায়! আসলে তিনি চাইছেন ‘মানুষের ক্ষমতা’। কিন্তু দিদিভাই, গত ১৫ বছরে মানুষের যে ‘ক্ষমতা’ আপনারা কেড়ে নিয়েছেন, সেই মানুষই এখন ব্যালটে আপনার ‘ক্ষমতা’ চিরতরে কেড়ে নেওয়ার জন্য হাত নিশপিশ করছে।
মা-বোনেদের বুথ পাহারার ডাক দেওয়া মানে আসলে কী? আসলে আসল ভোটারদের রুখে দিয়ে বুথ দখল করারই এক অলিখিত হুকুমনামা— এমনটাই দাবি করছে বিজেপি। তবে এবার বাংলার মানুষ বুঝে গিয়েছে। দিল্লির ‘চক্রান্ত’ নয়, বরং কালীঘাটের ‘কুচক্র’ ফাঁস হওয়ার সময় এসে গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, দিদির এই আগাম আর্তনাদ আর ‘আহত বাঘ’ সাজার চেষ্টা আসলে হারের আগে একটা বড় অজুহাত খাড়া করা। ৫৬ ইঞ্চির শাসনে এখন রিপোলের ভয়ই হোক বা ইডি-সিবিআইয়ের হানা— তৃণমূলের তাসের ঘর এখন টালমাটাল। বাংলার মানুষ এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা করছে, কখন এই ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলা বাঘকে বিদায় দিয়ে আসল গণতন্ত্রের সূর্যোদয় হবে।