প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলার তদন্তে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই (CBI)-এর ভূমিকা নিয়ে এবার বেনজির ক্ষোভ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তের অগ্রগতিতে কোনো সদর্থক ভূমিকা না দেখায়, সিবিআই-এর সদিচ্ছা ও কার্যকারিতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলল আদালত। বৃহস্পতিবার শুনানির সময় বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, সিবিআই-এর বর্তমান তদন্ত প্রক্রিয়ায় তারা একেবারেই সন্তুষ্ট নয়।

এদিন আদালতে সিবিআই তাদের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর তৈরি করা একটি খতিয়ান রিপোর্ট জমা দেয়। কিন্তু সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ঘটনার পর ১ বছর ৭ মাসেরও বেশি সময় কেটে গেছে, অথচ তদন্তে এখনও কোনো চূড়ান্ত রূপ দেওয়া যায়নি। সিবিআই-এর পেশ করা রিপোর্টে ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের’ তত্ত্বের কথা বলা হলেও, নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ তারা তুলে ধরতে পারেনি। আদালতের কথায়, তদন্তকারী সংস্থার এই ধীরগতির পেছনে একটি স্পষ্ট ‘গা-ছাড়া মনোভাব’ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি শম্পা সরকার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, মূল ঘটনার পর আর জি কর হাসপাতালের ভেতরে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার পেছনে আসলে কারা যুক্ত ছিল? কাদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে এবং এই ষড়যন্ত্রের জাল কতদূর বিস্তৃত? সিবিআই কেন এখনও সেই সমস্ত প্রভাবশালী বা নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করতে পারছে না, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত।

তদন্তের এই মন্থর গতিতে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন মৃত চিকিৎসকের (অভয়া) পরিবার। তাঁদের আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন যে, সিবিআই যদি মূল অপরাধীদের এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটকারীদের আড়াল থেকে টেনে বের করতে ব্যর্থ হয়, তবে এই মামলার তদন্তভার রাজ্য পুলিশের সিআইডি (CID)-র হাতে তুলে দেওয়া হোক।

আদালত সিবিআই-কে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তদন্তের এই ঢিলেঢালা ভাব যদি বজায় থাকে, তবে আগামীদিনে তাদের হাত থেকে মামলা কেড়ে নিয়ে অন্য কোনো সংস্থাকে দায়িত্ব দিতে বাধ্য হবে হাইকোর্ট। তবে সমস্ত দিক বিবেচনা করে, আদালত এখনই চরম কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সিবিআই-এর ওপর আপাতত আস্থা বজায় রেখে তাদের তদন্ত শেষ করার জন্য আরও কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছে।

আগামী ৬ অগাস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। ওই দিন তদন্তের অগ্রগতির সমস্ত সংগৃহীত নথিপত্র এবং বয়ান বন্ধ খামে সরাসরি আদালতের বেঞ্চে জমা দেওয়ার জন্য সিবিআই-কে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।