প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরের সাংগঠনিক ফাটল এবার স্পষ্ট হলো দেশের সংসদীয় রাজনীতিতেও। দল ও রাজ্যসভার পদ থেকে বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সুখেন্দুশেখর রায়ের ইস্তফার সিদ্ধান্তকে এবার প্রকাশ্যেই সমর্থন জানালেন বিধানসভার নবনিযুক্ত বিরোধী দলনেতা তথা তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রধান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সুখেন্দুশেখরের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি দলের বর্তমান নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।
সুখেন্দুশেখর রায়ের দলত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বহু মানুষের ইচ্ছার ঐক্য মিলে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সুখেন্দুশেখরবাবু যা বলেছেন, তার সঙ্গে আমরা একমত।” তিনি দাবি করেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কর্মপদ্ধতির কারণেই প্রবীণ ও যোগ্য নেতারা ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন এবং এই অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরেই দলের ভেতরে দানা বাঁধছিল।
দলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের নাম না করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কড়া ভাষায় তাঁর সমালোচনা করেন। সংসদে দলের ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “লাস্ট বেঞ্চে বসতাম, খারাপ লাগত। সুখেন্দুশেখরবাবুর জন্যও খারাপ লেগেছিল।” এর পরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ট বৃত্তের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আক্রমণাত্মক সুরে যোগ করেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে ক্যুইজ মাস্টারের ভাঁড়ামো সংসদ পর্যন্ত পৌঁছে গেছিল।” ঋতব্রতের এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
তৃণমূলের অন্দরে এই বিদ্রোহের জেরে ইতিমধ্যেই বিধানসভার প্রায় ৬০ জন বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মূল দল থেকে আলাদা হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেদের নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই আবহে সুখেন্দুশেখরের পদত্যাগ লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “সময় যত এগোবে, বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যা আরও বাড়বে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা সামলানোর আগেই সংসদের উচ্চকক্ষে সুখেন্দুশেখর রায়ের মতো বড় মাপের নেতার ইস্তফা এবং ঋতব্রত গোষ্ঠীর এই প্রকাশ্য আক্রমণ তৃণমূলের জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে বড়সড় সংকট তৈরি করল।