প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-জোড়াফুল প্রতীক কার দখলে থাকবে তা নিয়ে আজ দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের হাই-ভোল্টেজ মেগা শুনানির মাঝেই বাংলার রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব বোমা ফাটালেন ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ শিবিরের প্রধান তথা বিধানসভার বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মদন মিত্রের পর এবার খোদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে এক মারাত্মক রাজনৈতিক চাল চাললেন। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, আগামী ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নিজে প্রার্থী হন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থীই দেবে না তাঁদের অফিশিয়াল ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ শিবির! তবে এই ঘোষণার আড়ালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার এক চরম কৌশলী ছক লুকিয়ে রয়েছে।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একুশের বিধানসভা নির্বাচনের হারের ক্ষত মনে করিয়ে দিয়ে বেনজির আক্রমণ শানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন:”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে যদি লড়েন… তাহলে নন্দীগ্রামে আমরা প্রার্থী দেব না। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নিজের বুথে, নিজের পাড়ায় হেরেছেন মমতা। বাড়ির লোকেরাও সবাই ভোট দিয়েছে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। উনি সাধারণ নির্বাচনে জেতেন না, উপনির্বাচনে জেতেন। আমরা চাই উনি জিতুন, বিধানসভায় আসুন। আমরা চাই মমতা উপনির্বাচনে জেতার রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রাখুন। এবার উপনির্বাচনে তিনি প্রার্থী হলে, আমরা প্রার্থী প্রত্যাহার করব। আমরা চাই মমতা উপনির্বাচনে জেতার রেকর্ড ধরে রাখুন।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘প্রার্থী না দেওয়ার’ মহানুভবতার আড়ালে আসলে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খাটো করার এক নিখুঁত পরিকল্পনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামের মাটিতে নিজে দাঁড়িয়ে উপনির্বাচনে লড়াই করার জন্য কার্যত উস্কে দেওয়া হচ্ছে। যদি তিনি দাঁড়ান এবং নিজের ক্যারিশমায় জিতেন, তবেই প্রমাণ হবে যে তিনি সাধারণ নির্বাচনে কারচুপির শিকার হয়েছিলেন। নিজের বুথ ও নিজের পাড়াতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হেরেছেন এবং বাড়ির লোকের ভোট পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকেই সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন ঋতব্রত। মমতাকে ‘কেবল উপনির্বাচনে জেতা’ নেত্রী হিসেবে দেগে দিয়ে তাঁর সর্বভারতীয় ও রাজ্য স্তরের ভাবমূর্তিকে জোর ধাক্কা দেওয়ার কৌশল নিয়েছে বিরোধী দলনেতার শিবির।দিল্লিতে যখন কালীঘাট বনাম ঋতব্রত শিবিরের ৫ জন করে প্রতিনিধি জোড়াফুলের দখল নিতে কমিশনের ফুল বেঞ্চের মুখোমুখি হচ্ছেন, ঠিক তখনই বাংলার মাটিতে ঋতব্রতের এই চরম কৌশলী মন্তব্য উপনির্বাচনের পারদ এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।