প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) সদর দফতরে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম, ফান্ড ও প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের লড়াই যখন দিল্লির অলিন্দে তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন আইনি ও আর্থিক খরচের তরজায় জড়িয়ে পড়ল দুই পক্ষ। এবার সরাসরি আইনজীবী তথা শ্রীরামপুরের বিদায়ী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের থেকে কোটি কোটি টাকার আইনি ফি নেওয়ার অভিযোগ তুলে নতুন বিতর্ক উস্কে দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দিল্লির নির্বাচন সদনে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ শুনানির পর বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ঋতব্রত। নাম না করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর আইনজীবী পরিবারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন: “২০১১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত আইনজীবী বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর পুত্র, কন্যা, জামাতারা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থেকে কত টাকার মামলা করেছেন সেটা জানতে চাই। ফিরে গিয়েই চিঠি দেব মুখ্যমন্ত্রীকে।”
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ও মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে বিন্দুমাত্র দমে না গিয়ে কড়া ও আইনি পথেই পালটা জবাব দিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী ও বিদায়ী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। যা টাকা তিনি ও তাঁর পরিবার নিয়েছেন তা সম্পূর্ণ আইনসম্মত, পরিশ্রমের মাধ্যমে এবং আইনি পথেই নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। ঋতব্রতের চিঠির হুঁশিয়ারিকে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পালটা বলেন: “লিখুন না। আমার পরিবার, আমায় নিয়ে যা ইচ্ছে লিখুক। আমি যা টাকা পেয়েছি, সেটা পরিশ্রম করে পেয়েছি। আমি তো বিনা পরিশ্রমে টাকা পাইনি। আমার যা আছে, সব অন রেকর্ড। আমি কোর্টে মামলা লড়েছি, এটা তো কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। ফিজ তো নেবই। যেখানে যেখানে ফিজ নেওয়ার, সেখানে নিয়েছি।”
দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে একদিকে যখন তৃণমূলের প্রতীক ও দলীয় ফান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুই শিবিরের আইনজীবীরা তুমুল সওয়াল-জবাব করছেন, ঠিক তখনই বিগত ১৫ বছরে তৎকালীন রাজ্য সরকারের আমলে সরকারি কোষাগার থেকে আইনজীবীদের ফি বাবদ কত টাকা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে ঋতব্রতের এই আইনি প্রশ্ন তোলার সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র, কন্যা এবং জামাতারাও সরকারি স্তরে মামলা লড়ে কত টাকা আয় করেছেন, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।