প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আজ এক নজিরবিহীন ও টানটান উত্তেজনাময় মুহূর্তের সাক্ষী থাকল সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের বিজেপি রাজ্য কার্যালয়। প্রশাসনিক অলিন্দ থেকে সোজা দলীয় সদর দপ্তরে এসে হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কোনো পূর্বঘোষিত জাঁকজমক নয়, একেবারে অতর্কিতে তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে মুহূর্তে শোরগোল পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, নবান্নের মসনদে বসার পর থেকে যেভাবে তিনি একের পর এক মাস্টারস্ট্রোক দিচ্ছেন, আজকের এই ঝটিকা সফর আসলে তারই অংশ। সেখানে এক অভিনব ‘জনতার দরবার’-এর আবহ তৈরি করে দিলেন তিনি।
আজকের এই উপস্থিতির মূল লক্ষ্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কোনো দীর্ঘ লাল ফিতের ফাঁস নয়, কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নয়—সরাসরি আমজনতার মুখোমুখি বসলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের অভাব, অভিযোগ আর দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা শুনলেন নিজের কানে। দলীয় কার্যালয়ের চত্বর মুহূর্তে রূপান্তরিত হলো এক গণ-আদালতে, যেখানে খোদ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান সাধারণ মানুষের ফরিয়াদ শুনছেন। বিজেপি ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য ২৪ ঘণ্টাই প্রস্তুত তাঁর প্রশাসন।
শুধু সমস্যার কথাই শুনলেন না, উপস্থিত শীর্ষ নেতৃত্ব ও আধিকারিকদের সামনেই অন-স্পট সমাধানের রূপরেখা তৈরি করে দেন শুভেন্দু অধিকারী। যাঁরা ভেবেছিলেন ক্ষমতা পাওয়ার পর দূরত্ব তৈরি হবে, তাঁদের ভুল প্রমাণ করে দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন—দল এবং প্রশাসন, উভয় ক্ষেত্রেই তিনি সমানভাবে সক্রিয় এবং দায়বদ্ধ। কলকাতা থেকে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন জনসংযোগ মডেল আগামী দিনে প্রতিটা জেলায় পৌঁছে যাবে বলে বিশেষ সূত্রে জানা যাচ্ছে। আজকের এই মেগা অ্যাকশন প্ল্যান আগামী দিনে রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় এক বড়সড় মোড় আনতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।