প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আসন্ন দুর্গাপুজোর খুশির আবহেই এক নজিরবিহীন ও আকস্মিক আতঙ্কে বুক কাঁপছে রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষকের। আজ, সোমবারে (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল থেকেই এই ক্ষোভের আগুন আছড়ে পড়ল সল্টলেকের রাজপথে। চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে একযোগে সল্টলেকের করুণাময়ী মোড় এবং বিকাশ ভবন চত্বর অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ দেখালেন হাজার হাজার চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষক ও চাকরিপ্রার্থীরা। সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনেই আন্দোলনকারীদের কান্না আর পুলিশের ব্যারিকেডে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেল বিধাননগরের প্রশাসনিক এবং আইটি হাব।
আজকের এই মেগা আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে একটি সরকারি ও বেসরকারি এজেন্সির নির্দেশিকা, যা শিক্ষকদের কাছে কার্যত ‘চাকরি বাতিলের চিরকুট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইসিটি অ্যাট স্কুল (ICT@School) প্রকল্পের ষষ্ঠ ও সপ্তম ফেজে কর্মরত প্রায় ১,৪০০ কম্পিউটার শিক্ষকের চুক্তি আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬-এ শেষ হতে চলেছে। নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়ার কারণে পুজোর ঠিক মুখে তাঁদের চাকরি হারানোর চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। “পুজোর মুখে আমাদের কেন রাস্তায় বসানো হচ্ছে?”—এই স্লোগান তুলে প্রায় ৩,০০০-এর বেশি শিক্ষক করুণাময়ী থেকে বিকাশ ভবনের দিকে এগোতেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকায়। পুলিশের সাথে তীব্র ধস্তাধস্তির মাঝেই চরম হতাশায় ও ক্ষোভে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা সল্টলেকের পিচ রাস্তার ওপরেই শুয়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি—কোনো বেসরকারি এজেন্সির অধীনে নয়, তাঁদের সরাসরি সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে ৬০ বছর পর্যন্ত কাজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দিতে হবে।
কম্পিউটার শিক্ষকদের এই বিকাশ ভবন অভিযানের সমান্তরালে, সল্টলেকের করুণাময়ী মোড়ে বিশাল সমাবেশ ঘটায় ২০২২ সালের টেট পাস ডিএলএড ঐক্যমঞ্চের চাকরিপ্রার্থীরা। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রাথমিকে নিয়োগের দাবিতে বঞ্চিত এই প্রার্থীরা প্লাকার্ড হাতে রাজপথে বসে পড়েন। তাঁদের দাবি-টালবাহানা না করে প্রাথমিকে মেধার ভিত্তিতে অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, অন্যথায় পুজোর দিনগুলিতেও তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না।
একই দিনে সল্টলেকের দুটি অতি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এই জোড়া আন্দোলনের জেরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় বিধাননগর জুড়ে। করুণাময়ী ও বিকাশ ভবনের চারপাশ বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘিরে রেখেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ব্যারিকেড দিয়ে পুরো এলাকা মুড়ে ফেলতে হয়। পুজোর মুখে সল্টলেকের বুকে এই মেগা বিক্ষোভ বর্তমান সরকারের ওপর যে তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি করল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।