প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা তোলাবাজি রুখতে এবার আরও আক্রমণাত্মক রূপ নিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। সোমবার দলের একাংশকে কড়া বার্তা দিয়ে সরাসরি দল থেকে বের করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের পর এবার অগ্নিমিত্রার এই কড়া অবস্থান ও বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে দলের অন্দরে ও রাজ্যের রাজনীতিতে।
এদিন কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের দফতর ও দলের একাংশের দুর্নীতি নিয়ে কড়া ভাষায় তোপ দাগেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট বলেন, “রাজ্য সভাপতি ইতিমধ্যেই পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, এসব (তোলাবাজি বা কাটমানি) করলে সোজা দল থেকে বের করে দেওয়া হবে।” তিনি জানান যে, মানুষের স্বার্থে এই নতুন সরকার গঠন হয়েছে এবং কোনো স্তরেই সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম বরদাস্ত করা হবে না।”
বিগত তৃণমূল সরকারের আমলের চোর-সংস্কৃতি এবং ভাগাভাগির রাজনীতিকে কড়া আক্রমণ শানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমরা তো আর বলি না যে, তোলাবাজি করে টাকা তোলো আর ৭০%-৩০% অনুপাতে ভাগ করে ওপরতলায় পাঠাও।” তিনি দাবি করেন, সিন্ডিকেট বা বেআইনি কাজের টাকা নিয়ে বিজেপিতে কোনো পিসি-ভাইপোর তহবিল গোছানোর সংস্কৃতি নেই।”
বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও চরম বিতর্কিত মন্তব্যটি মন্ত্রী করেন দলে অন্য দল থেকে আসা কিছু নতুন নেতাকর্মীর ভূমিকা নিয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে দলের নেতাদের তোলাবাজি সংক্রান্ত প্রশ্নে মেজাজ হারিয়ে অগ্নিমিত্রা পল সরাসরি বলেন, “সবাইকে তো আর আমরা ওয়াশিং মেশিন বা ডিটারজেন্টে ধুয়ে পরিষ্কার করে দলে আনিনি! তারা তো সেই রক্ত-মাংসের মানুষ।” তিনি আরও জানান যে, নতুন সরকারে এসে যারা ভাবছে এই সব করে রাতারাতি রোজগার বাড়াবে, তাদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। মানুষের সুবিধার্থে ইতিমধ্যেই ৪টি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে—যেখানে বেআইনি টোল ট্যাক্স, সিন্ডিকেট, তোলাবাজি ও মদের ঠেক রুখতে সাধারণ মানুষ সরাসরি ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন। পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষও এদিন স্পষ্ট করেছেন যে, এই ধরণের দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন কর্মীকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।