প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আসন্ন কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম নির্বাচনকে ঘিরে এই মুহূর্তে চরম পারদ চড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বিধানসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব সাফল্যের পর এবার পুরসভাগুলির দখল নিতে কোমর বেঁধে নামছে শাসকদল বিজেপি। কিন্তু এই আবহে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে জোট সমীকরণ। দিল্লির এনডিএ শরিক দল ‘ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI) বাংলায় বিজেপির সঙ্গে আসন সমঝোতা করে লড়তে চাইলেও, রাজ্য নেতৃত্বের তরফে মিলল একলা চলার কড়া বার্তা। জোট জল্পনা এবং বিরোধীদের নানাবিধ কটাক্ষের মাঝেই এবার মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর স্পষ্ট বয়ান, বাংলায় বিজেপি নিজের শক্তিতেই সরকার গড়েছে এবং আগামী পুরভোটও লড়বে একক শক্তিতেই।
কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের রণকৌশল নির্ধারণে বিজেপির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাঝেই এই জোট বিতর্ক নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শমীক ভট্টাচার্য। তৃণমূল জমানা থেকে আসা সাংসদদের নতুন দল এনসিপিআই-এর সঙ্গে কোনওরকম আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপি ২০২১ এর নির্বাচন থেকে কিছু শিক্ষা নিয়েছে। আর তার ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ এর নির্বাচন লড়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য সরকার তৈরি হয়েছে।” এনসিপিআই বা অন্য কোনও শিবিরের সাহায্য নিয়ে পুরভোটে জেতার জল্পনা নস্যাৎ করে শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দেন, “সুতরাং বিজেপি কারও দয়ায় আসেনি। বিজেপিকে মানুষ ভরসা করেছে। এবং সেই ভরসা আজও অটুট আছে।”
রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী, তৃণমূল ত্যাগী যে ২০ জন সাংসদ বিধানসভা নির্বাচনের পর এনসিপিআই গঠন করে দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-কে সমর্থন জুগিয়েছেন, তাঁদের ধারণা ছিল পুরভোটেও বাংলায় বিজেপির সঙ্গে যৌথভাবে লড়াই করবেন তারা। এমনকি এনসিপিআই নেতৃত্ব দাবিও করেছিল যে আসন রফা নিয়ে দিল্লির বিজেপি নেতাদের সাথে কথাবার্তা চূড়ান্ত। কিন্তু বাংলায় তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে ক্ষমতায় আসা বিজেপি নেতৃত্ব কোনওভাবেই তৃণমূলের পুরোনো মুখদের সাথে নিয়ে পুরভোটে নেমে নিজস্ব ভাবমূর্তি ও তৃণমূল স্তরের কর্মীদের আবেগে আঘাত করতে নারাজ। শমীক ভট্টাচার্য ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, দিল্লির সমীকরণ আলাদা হলেও বাংলায় বিজেপি একা লড়ে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম দখল করতে ১০০ শতাংশ সক্ষম। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে এই মেগা পুরভোট। তার ঠিক আগে শমীক ভট্টাচার্যের এই হুঙ্কার একদিকে যেমন বিরোধী শিবিরকে বার্তা দিল, তেমনই শরিক দল এনসিপিআই-এর জোটের আশাতেও জল ঢেলে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।