প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া তিন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদকে নিয়ে বিজেপির অন্দরে তৈরি হওয়া তীব্র ক্ষোভ ও ছবি অবমাননার ঘটনায় মুখ খুললেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। গত জুলাই মাসে তৃণমূলের প্রাক্তন তিন সাংসদ—সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। এই দলবদলকে কেন্দ্র করে বিজেপির আদি ও নিষ্ঠাবান কর্মীদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়, যার জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন নেতাদের ছবিতে জুতোর মালা পরানোর ছবি ভাইরাল হয়ে ওঠে।
এদিন শমীক ভট্টাচার্য দলীয় কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন ও রাজনৈতিক বার্তা দিতে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন।দলের ভেতরের ক্ষোভ নিয়ে সরাসরি প্রশ্নের উত্তরে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, এই যোগদান সম্পূর্ণ দলের সর্বোচ্চ স্তরের সিদ্ধান্ত ছিল। তিনি বলেন, “দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশেই আমি কয়েকজনের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছিলাম। দেশের স্বার্থে, সংসদীয় রাজনীতির বৃহত্তর স্বার্থে কখনও কখনও কিছু কাজ করতে হয়।” এর পর ভাইরাল ছবির প্রসঙ্গে কর্মীদের ক্ষোভকে পরোক্ষ মান্যতা দিয়ে তিনি যোগ করেন, “তৃণমূলের প্রতি এত ঘৃণা যে, কেউ কেউ সেই ছবিতে জুতোর মালা পরিয়েছেন।”
ছবিতে জুতোর মালা পরানোর ঘটনাকে তীব্র নিন্দা না করে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক ভঙ্গিতে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দেন। তিনি বলেন, “যিনি করেছেন ভাল কাজ করেছেন, সুন্দর কাজ করেছেন। কিন্তু এই ধরনের কাজের মধ্যে উনি জুতো গুলো দেখলাম সব নতুন। সাধারণত তো ছেঁড়া জুতোর মালা পরাতে হয়, কিন্তু উনি সব নতুন মালা পরিয়ে দিয়েছেন। এতেই বোঝা যায় আমরা কোন জায়গায় আছি। এতেই বোঝা যায়, মানুষ তৃণমূলকে কোন জায়গায় দেখতে চায়।” শমীক ভট্টাচার্যের এই আলংকারিক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে।
২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়ে রাজ্যে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এসেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। ক্ষমতা পরিবর্তনের পর রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব বারবার ঘোষণা করেছিল যে, দলের কোনো ‘তৃণমূলীকরণ’ হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু জুলাইয়ের শুরুতে আকস্মিকভাবে তৃণমূলের তিন হেভিওয়েট প্রাক্তন সাংসদকে সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে বিজেপির পতাকা ধরানো হয়। রাজ্যসভায় প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যা ও সংসদীয় সমীকরণ মজবুত করতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভকে সামাল দিতেই রাজ্য সভাপতি এই কৌশলী বিবৃতি দিয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।