প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে বড়সড় পদক্ষেপ নিলো নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি (MCC) ভঙ্গের দায়ে এবং সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচার চালানোর গুরুতর অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের যুগ্ম বিডিও (Joint BDO) জ্যোৎস্না খাতুনকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে, বিশেষত প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।

খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রের সহকারী রিটার্নিং অফিসার (ARO) হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন জ্যোৎস্না খাতুন। অভিযোগ উঠেছে, সেই নিরপেক্ষ সাংবিধানিক পদে আসীন থেকেও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থনে প্রচার চালাচ্ছিলেন। বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এই অভিযোগের স্বপক্ষে অকাট্য প্রমাণ বা স্ক্রিনশট জনসমক্ষে আনেন এবং সরাসরি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কাছে নালিশ জানান। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় কমিশন বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তাঁকে সাসপেন্ড করার এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় তদন্ত (Departmental Inquiry) শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে এই সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, খণ্ডঘোষের ওই শূন্য পদে নতুন কার নাম প্রস্তাব করা হচ্ছে, তাও দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই এই আধিকারিক ভালো কাজের জন্য কমিশনের থেকে পুরস্কার পেয়েছিলেন, কিন্তু ‘দলের গোলামি’ করতে গিয়ে সেই সম্মান তিনি ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্যোৎস্না খাতুনের এই সাসপেনশন আসলে হিমশৈলের চূড়ামাত্র। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় প্রশাসনের মেরুদণ্ড যেভাবে ভেঙে পড়েছে, এটি তারই এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ উঠছে যে, বিডিও বা এসডিও-র মতো পদগুলিকে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের ‘আজ্ঞাবহ ক্যাডার’ হিসেবে ব্যবহার করছে। একজন এআরও (ARO) পর্যায়ের আধিকারিক যখন সরাসরি দলীয় প্রচারে অংশ নেন, তখন বোঝা যায় যে প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে শাসক দলের প্রভাব কতটা গভীরে ঢুকেছে। এটি আসলে সুস্থ গণতন্ত্রের কপালে চরম কলঙ্ক।

রাজনৈতিক মহলের দাবি, পায়ের তলায় মাটি সরে যাওয়ায় তৃণমূল এখন রাজনৈতিক লড়াই ছেড়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ভোটারদের মন জয় করতে না পেরে এখন সরকারি কর্মীদের দিয়ে প্রচার করিয়ে বৈতরণী পার হওয়ার যে মরিয়া চেষ্টা শাসক দল করছে, জ্যোৎস্না খাতুনের ঘটনা সেই ছকটিকেই সপাটে ফাঁস করে দিয়েছে। নির্বাচনের আগে এই সাসপেনশন আদতে তৃণমূলের একটি বড় নৈতিক পরাজয়। কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপ আসলে সেই সমস্ত ‘দলদাস’ আধিকারিকদের জন্য একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা, যাঁরা পদের মর্যাদা ভুলে তৃণমূলের ঝাণ্ডা ধরার চেষ্টা করছেন। এটি প্রমাণ করে দিল যে, নির্বাচনী ময়দানে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে পার পাওয়া যাবে না।

শনিবারের রিপোর্টের পর এই জল কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। তবে খণ্ডঘোষের এই ঘটনা খোদ নবান্নের অন্দরেও যে কম্পন ধরিয়ে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।