প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- এমনিতেই এসআইআরে যেভাবে প্রচুর অবৈধ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। আর সেই কারণেই তিনি এসআইআরকে স্থগিত করার জন্য বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বারবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিচ্ছেন। যেভাবেই হোক এসআইআর প্রক্রিয়াকে বন্ধ করার চেষ্টা করছেন তিনি। আর এসবের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিন্তা বাড়িয়ে সাত সকালেই সামনে এলো বড় খবর। যে অমিত শাহকে মীরজাফর থেকে শুরু করে বিভিন্ন ভাষায় আক্রমণ করেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবার সেই অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আগে পুরোপুরি নজর দিতে চলেছেন সেই বাংলার দিকেই। একফোঁটাও খামতি যাতে এসআইআর থেকে শুরু করে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া বা ভোট প্রক্রিয়ার মধ্যে না থাকে, তার জন্য দিল্লিতে বসে নয়, এবার একেবারে বাংলায় ঘাঁটি গেড়ে গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এমনিতেই প্রায় সকলেই জানেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নরেন্দ্র মোদীর থেকেও অমিত শাহকে দেখে এবং তার রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তার কাছে যথেষ্ট চাপে থাকেন। সেই কারণেই তিনি নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করা অপেক্ষা অমিত শাহকে বেশি আক্রমণ করে বসেন। আর এতেই বোঝা যায় যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রাজনৈতিক কৌশলের কাছে যথেষ্ট ভীত। আর বার সেই অমিত শাহই আগামী মাস থেকেই রীতিমত পড়ে থাকবেন বাংলার মাটিতে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দিল্লিতে অবশ্যই তার প্রশাসনিক কাজ রয়েছে। কিন্তু যতদিন না বাংলার নির্বাচন হচ্ছে, ততদিন বেশিরভাগ সময়টা তিনি বাংলাতে থেকে বাংলার পরিস্থিতি বুঝে এখানেই ব্যয় করবেন। আর একদিকে যখন এসআইআর নিয়ে অত্যন্ত চাপে রয়েছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তখন এই অমিত শাহের বাংলায় পড়ে থাকা এবং এখানেই বেশি সময় দেওয়া নিয়ে যে খবর সামনে এলো, তাতে যে তার অস্বস্তি এবং বিড়ম্বনা আরও দ্বিগুণভাবে বৃদ্ধি পাবে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ সূত্র মারফত পাওয়া খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই বাংলায় বেশি সময় দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এমনকি নির্বাচন সংক্রান্ত গোটা বিষয়ে নজরদারির জন্য কলকাতায় একটি বাড়ি ভাড়া নিতে পারেন তিনি। আর সেখানে থেকেই পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত কাজ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা, এমনকি সাংগঠনিক কাজেও মনোনিবেশ করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির যিনি সর্বভারতীয় চাণক্য, যার নেপথ্যে বুদ্ধিতে একের পর এক রাজ্য জয় করেছে বিজেপি, তিনি যদি একেবারে নিজেই সশরীরে বাংলায় নির্বাচনের আগে উপস্থিত থেকে কৌশল সাজাতে শুরু করেন, তাহলে এমনিতেই তো তৃণমূল অত্যন্ত চাপে রয়েছে। আর অমিত শাহের এই উপস্থিতির ফলে তারা যে আরও কায়দায় পড়ে যাবে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাতের ঘুম উড়তে শুরু করবে, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।