প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-লোকসভার বাদল অধিবেশন শুরু হতেই রণক্ষেত্রের রূপ নিল দেশের সংসদ ভবন। মহিলা সাংসদদের উদ্দেশ্যে ‘অসংসদীয় ও অত্যন্ত কুরুচিকর’ ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরো বাদল অধিবেশনের জন্য সংসদ থেকে বহিষ্কার (Suspension) করা হলো। স্পিকার ওম বিড়লার এই কড়া পদক্ষেপের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কল্যাণের বিরুদ্ধে মারাত্মক ও বিস্ফোরক সব অভিযোগ উগরে দিলেন বীরভূমের প্রাক্তন তৃণমূল তথা বর্তমান এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ শতাব্দী রায়।
সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করে শতাব্দী রায় সরাসরি বলেন, “কল্যাণদা এটা সবসময় করেন। সবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। মহিলাদের গালিগালাজ দেন। একদম নীচুস্তরের লোকেরা যে ধরণের গালাগালি করে থাকে, উনি সেই রকম গালাগালি করেন। এটা ভাবাই যায় না যে কোনও ভদ্রলোকের মুখ থেকে এই ধরণের ভাষা বেরোতে পারে।”
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরোক্ষ উল্লেখ করে শতাব্দীর আরও মারাত্মক অভিযোগ, “আগে দিদি বলতেন ছেড়ে দাও, ছেড়ে দাও, আর হবে না। কিন্তু ওঁর সাহসটা দিনে দিনে এত বেড়ে গিয়েছে যে উনি ভাবছেন সবাই ওঁর চাকর।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর লোকসভার ২০ জন তৃণমূল সাংসদ দলত্যাগ করে ‘এনসিপিআই’ (NCPI) জোটে শামিল হন, যার মধ্যে শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং মিতালি বাগও রয়েছেন। অন্য দিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অনুগত। আজ লোকসভার অধিবেশন কক্ষের ভেতরে এই দলত্যাগী মহিলা সাংসদদের দেখেই মেজাজ হারান কল্যাণ এবং তাঁদের উদ্দেশ্যে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ।
কল্যাণের এমন আচরণের পর শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং মিতালি বাগরা একজোট হয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরই কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশনের প্রস্তাব আনলে ধ্বনিভোটে তা পাস হয় এবং কল্যাণকে তৎক্ষণাৎ সংসদ কক্ষ ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সংসদে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আচরণ এবং শতাব্দী রায়ের এই বিস্ফোরক বয়ানকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জাতীয় রাজনীতি তোলপাড়।