প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
গতকালই রাজ্যে এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। আজ দফায় দফায় বৈঠক করার কথা রয়েছে তাদের। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করতে শুরু করেছেন তারা। তবে একেবারে সাত সকালেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের এলাকা বলে পরিচিত কালীঘাটে পৌঁছে গেলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বলা বাহুল্য, এই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কতই না রাগ তৃণমূল কংগ্রেসের। আর তিনি যখন কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে সেখানে পৌঁছলেন, সেখানেও একদল মানুষের চূড়ান্ত অসভ্যতা লক্ষ্য করা গেল। যেখানে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মন্দিরে পূজা দিতে যাচ্ছেন, সেই সময় তাকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হলো গো ব্যাক স্লোগান।

গতকাল রাতে যখন জ্ঞানেশ কুমার কলকাতায় এসেছিলেন, তখন থেকেই কিছু অসভ্যতা লক্ষ্য করা যায়। যে তৃণমূল কংগ্রেস এতদিন জ্ঞানেশ কুমারকে যা ইচ্ছে তাই বলে আক্রমণ করেছিলেন, সেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কলকাতায় আসতেই তাদের আতঙ্ক যে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর সেই কারণেই গতকাল তিনি যখন হোটেলে ঢুকছিলেন, সেই সময় তার কনভয় লক্ষ্য করে গো ব্যাক স্লোগান এবং কালো পতাকা দেখানো হয়। আর আজ সকালেও তিনি যখন কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন, সেই সময়েও সেই একই বিশৃঙ্খলা এবং চূড়ান্ত অসভ্যতার পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্ঞানেশ কুমার যে কাউকে ভয় পায় না, তিনি যে নিজের আইন এবং সংবিধান অনুযায়ী কাজ করছেন, তা খুব ভালো মতোই বুঝতে পারছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর তাতেই তাদের আতঙ্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ যেভাবে অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাচ্ছে এবং যেভাবে এবার পশ্চিমবঙ্গে নিরপেক্ষতা অবলম্বন করে ভোট করাতে চাইছে নির্বাচন কমিশন, তাতেই তাদের জ্ঞানেশ কুমারের ওপর সব থেকে বেশি রাগ। আর সেই কারণেই তিনি কলকাতায় আসতেই তাকে সব ভাবে বিব্রত করার জন্য তৈরি হয়ে রয়েছেন তৃণমূল কর্মীরা। তবে একেবারে সাত সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক বলে পরিচিত কালীঘাটে পৌঁছে সেখানে মন্দিরে পুজো দিয়ে এই সমস্ত বিক্ষোভ এবং অসভ্যতাকে পাত্তাই দিলেন না দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সব মিলিয়ে গোটা পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।