প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ফ্রিজ (স্থগিত) করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় নির্বাচন কমিশনকে (ECI) কড়া নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের গঠিত তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চে এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।শুনানি চলাকালীন দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করে, “এই প্রতীক বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে কমিশনের ঠিক কতদিন সময় লাগবে?” আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়ে প্রতীক আটকে রাখা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না, পরবর্তী কোনো নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আদালতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করেন দেশের প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তিনি নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলের অন্দরে একটি গোষ্ঠী কোন্দল তৈরি হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যেভাবে উপ-নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার পর এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে হুট করে প্রতীক ও নাম ফ্রিজ করে দিয়েছে, তা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং এর ফলে দলনেত্রী কোনো আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ পাননি। কপিল সিব্বাল আদালতে যুক্তি দেন যে, আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপ-নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তৃণমূলের মূল নেতৃত্ব কোনো আইনি প্রতিকার ছাড়াই সম্পূর্ণ নতুন প্রতীকে লড়াই করতে বাধ্য হচ্ছে।
শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায় যে, দুই পক্ষই যাতে নিজেদের প্রমাণ ও বক্তব্য পেশ করার ন্যায্য সুযোগ পায়, তেমন একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা প্রয়োজন। শিব সেনা মামলার প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, “শিব সেনার ক্ষেত্রে বিলম্বের কী পরিণতি হয়েছিল, তা আমরা দেখেছি।” অর্থাৎ তৃণমূলের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখার পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা আদালত চাইছে না। কমিশনের আইনজীবী ডি এস নায়ডু আদালতে জানান, ১০ বা ২০ দিনের ডেডলাইন দেওয়া ঠিক হবে না, কারণ এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া যেখানে হলফনামা ও প্রমাণাদি খতিয়ে দেখতে হয়। তবে আদালত নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানোর নির্দেশ দিলে কমিশনের আইনজীবী জানান, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (সোমবার) তারা আদালতে এই সময়সীমা পেশ করবেন।
বৃহস্পতিবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যেহেতু নির্বাচন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এবং মনোনয়নপত্রও জমা পড়ে গিয়েছে, তাই এই মুহূর্তে উপ-নির্বাচনের মাঝে আদালত হস্তক্ষপ করবে না। অর্থাৎ, আগামী ৬ অক্টোবরের উপ-নির্বাচনে দুই পক্ষকে কমিশনের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন নাম ও প্রতীক নিয়েই লড়তে হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির: দলের নাম ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (বিদ্রোহী শিবির): দলের নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক ‘খাম (Envelope)’। আগামী সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানিতে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য ঠিক কতদিনের সময়সীমা জমা দেয়, তার ওপরেই নির্ভর করছে বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী আঞ্চলিক দলের প্রতীকের ভবিষ্যৎ।