প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- এতদিন রাজ্য পুলিশের যে সমস্ত কর্তা ব্যক্তিরা তৃণমূলের কথায় দলদাসের মত আচরণ করতেন, তার মধ্যে যে কয়জনের নাম ধরে আক্রমণ করতে দেখা যেত রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে, তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন, সুপ্রতিম সরকার। কিন্তু গতকালই খবর আসে যে, সেই সুপ্রতিম সরকারকেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার করা হতে চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই এই বিষয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার প্রতিক্রিয়া জানার জন্য উদগ্রীব ছিলেন সকলে। আর গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেই প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে এমন এক কথা বলে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী, যার ফলে প্রবল সমস্যার মুখে পড়ে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্তত তেমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু কি এমন বললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা?
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলনের প্রতিভু হলেও, ক্ষমতায় আসার পর তার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। আর তিনি একসময় তার দলকে যে সমস্ত পুলিশকর্তারা বাধা দিয়েছিলেন, অত্যাচার করেছিলেন, তাদেরকেই এখন তিনি শীর্ষ আসনে বসিয়েছেন। যার ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আমূল পরিবর্তন অনেকেই মানতে না পেরে বিজেপিতে যোগদান করেছেন। এই কথা তুলে ধরে মাঝেমধ্যে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান কেন বদল হলো, তার যুক্তি দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর গতকাল যখন সুপ্রতিম সরকারকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে বলে খবর এসেছে, ঠিক তখনই সেই সুপ্রতিম সরকার একসময় সিঙ্গুর আন্দোলনের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিভাবে বাধা দিয়েছিল, তা নিয়ে গোপন তথ্য ফাঁস করে তৃণমূলেরই প্রাক্তন বিধায়িকা সোনালী গুহর কাছ থেকে গোটা বিষয়টি শোনার কথা বলে শোরগোল ফেলে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন কলকাতার নয়া পুলিশ কমিশনার হিসেবে সুপ্রতিম সরকারের নাম সামনে আসতেই শুভেন্দুবাবুকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “সুপ্রতিম সরকার সন্দেশখালির ইস্যু শুধু নয়, সিঙ্গুরে মমতা ব্যানার্জিকে সেদিন সিপিএমের কথায় আটকেছিলো। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে পরিবর্তন, যে কারণে আমরা তাকে ছেড়েছি রাজনৈতিকভাবে। সুপ্রতিম সরকারকে করার মধ্য দিয়ে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। সুপ্রতিম সরকার সম্পর্কে আমার থেকেও বেশি প্রাক্তন বিধায়িকা, প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার সোনালী গুহ জানেন। তার কাছ থেকে জিজ্ঞেস করবেন।”