প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রথম দিন থেকেই এসআইআরের বিরোধিতা করে ভেবেছিলেন, তিনি সব বিষয়েই যেরকম বিরোধিতা করে আসেন, সেরকম এক্ষেত্রেও বিরোধিতা করে তিনি গোটা ব্যবস্থাকে বন্ধ করে দেবেন। এমনকি এসআইআর যাতে বন্ধ হয়ে যায়, তার জন্য মরিয়া চেষ্টা করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত ছুটে গিয়েছিলেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। কিন্তু সেখানেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন বলেই দাবি করে বিরোধীরা। আর এসআইআর প্রক্রিয়ায় গাফিলতির অভিযোগে যখন সাত আধিকারিককে নির্বাচন কমিশন সাসপেন্ড করেছে, তখন আতঙ্ক যেন আরও বাড়ছে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে। পরাজয়ের আতঙ্কে এখন তিনি পাল্টা নির্বাচন কমিশনকেই ভয় দেখাতে শুরু করেছে। আজ আবার নবান্ন থেকে নিজেকে ৪৪০ ভোল্ট বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই বিষয় নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনকে ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে পাল্টা হুংকার দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী‌।

বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে যে সমস্ত ঘটনা ঘটছে, তার মধ্যে সকলেই খুব এনজয় করছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রুদ্রমূর্তি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অতীতে কখনও দেখা যায়নি। তিনি বাম সরকারের আমলেও বিরোধী রাজনীতি করেছেন। সেখানে তিনি মাইলেজ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কখনও তিনি এতটা চাপে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়নি। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে যেভাবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন চেপে ধরেছে, যেভাবে ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ যাচ্ছে, তাতে আর বিকল্প কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তাই শেষ পর্যন্ত গরমাগরম বক্তব্য রেখে নিজেকে ৪৪০ ভোল্ট দাবি করে এবার ভয় দেখানোর রাস্তায় নেমে পড়লেন তিনি? তবে তার এই সমস্ত বক্তব্যে যে কেউ ভয় পায় না, শেষ পর্যন্ত এবার এসআইআর প্রক্রিয়ার পর তৃণমূলকে নির্বাচনে যে পরাজিত হয়েই বিদায় নিতে হবে, তা স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর নিজেকে 440 ভোল্ট বলে দাবি করা প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে শুভেন্দুবাবু বলেন, “উনি এই সমস্ত কথা বলে ভয় দেখাচ্ছেন। কোনো লাভ হবে না। যত ভয় দেখাচ্ছে, তত নির্বাচন কমিশন টাইট করছে। উনি ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ থেকে ভয় দেখাচ্ছেন। কোনো লাভ হবে না। নির্বাচন কমিশন ঠিক রাস্তায় রয়েছে। অ্যাকশন নিচ্ছে, সাসপেন্ড করছে। এফআইআর করবে। আরিজ আফতাব নেই। এবার তৃণমূলকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।”