প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সাতসকালে কলকাতা শহরজুড়ে ফের রাজনৈতিক শোরগোল। এক ব্যবসায়ীকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি এবং দফায় দফায় প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা তোলা আদায়ের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর শামস ইকবাল ওরফে অনিল। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ (ববি) হাকিমের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত বৃত্তের মানুষ হিসেবে পরিচিত এই নেতার গ্রেফতারিতে বন্দর এলাকার রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন মেটিয়াবুরুজ এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ শাদাব (৩৩) নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী। অভিযোগ, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে শামস ইকবাল এবং তাঁর সহযোগীরা ওই ব্যবসায়ীকে এলাকায় শান্তিতে ব্যবসা করতে দেওয়ার নামে ক্রমাগত মানসিক ও শারীরিক হেনস্থা শুরু করে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবারকে খুনের হুমকি দিয়ে দফায় দফায় মোট ৭০ লক্ষ টাকা তোলা নেওয়া হয়। সম্প্রতি মেটিয়াবুরুজ থানায় ব্যবসায়ী শাদাব লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরেই গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠে এবং সোমবার সকালে শামস ইকবালকে গ্রেফতার করে।

তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শামস ইকবালের বিরুদ্ধে কেবল ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র তোলাবাজি বা হুমকির ধারাই নয়, ভয় দেখানোর জন্য বেআইনি রিভলভার ব্যবহার করার কারণে নির্দিষ্ট ‘অস্ত্র আইন’ বা আর্মস অ্যাক্টেও মামলা রুজু করা হয়েছে। এই মামলায় শামসের দুই প্রধান সহযোগী মহম্মদ ফরাজ (উর্ফে বুন) এবং ফিরোজ কুরেশি (উর্ফে ছুরি ফিরোজ)-সহ বেশ কিছু অজ্ঞাতপরিচয় সঙ্গীর নামও রয়েছে। পুলিশ বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে।

সম্প্রতি তারাতলা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন গুদাম ভেঙে পড়ে ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু ও বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি অনুমোদিত ‘ভারতীয় জনতা মজদুর সেকশন’-এর পক্ষ থেকে তারাতলা থানায় ফিরহাদ হাকিম, আনোয়ার খান ও শামস ইকবালের বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ তুলে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। ফলে আজ সকালে শামসের গ্রেফতারির খবর ছড়াতেই অনেকে ঘটনার সাথে গুদাম বিপর্যয়ের যোগসূত্র খুঁজতে শুরু করেন।

তবে কলকাতা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারাতলার গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনার সাথে এই গ্রেফতারির কোনো প্রত্যক্ষ সংযোগ নেই। শামস ইকবালকে সম্পূর্ণভাবে ২০২৩ সালের সেই ৭০ লক্ষ টাকার পুরনো তোলাবাজি ও ব্যবসায়ীকে হুমকির মামলার ভিত্তিতেই জালে তোলা হয়েছে। বর্তমানে ধৃত প্রাক্তন কাউন্সিলরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। বন্দর এলাকায় আর কাদের থেকে এইভাবে টাকা তোলা হয়েছে, সেই চক্রের শিকড় কতদূর তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।