প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একেবারে প্রথম বলেই ছক্কা! রাজনীতির ময়দানে জল্পনা অনেক ছিল, কিন্তু চেয়ারে বসতেই চেনা মেজাজে ধরা দিলেন উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র। সদ্য গঠিত নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় পর্যটন ও সংসদীয় বিষয়ক দপ্তরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবিনেট মন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক ডক্টর শঙ্কর ঘোষ। আর দায়িত্ব নেওয়ার পরেই রাজনৈতিক অলিন্দে তাঁর মন্তব্য ঘিরে রীতিমতো তোলপাড়। স্বভাবসিদ্ধ তীক্ষ্ণ ভাষায় সাফ জানিয়ে দিলেন, বিগত ১৫ বছরের প্রাক্তন জমানায় পর্যটনের নামে যে নৈরাজ্য এবং শৃঙ্খলাহীনতা চলেছে, এবার তার অবসান ঘটতে চলেছে।

শঙ্কর ঘোষ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বর্তমান সরকারের শীর্ষ স্তর থেকে যে রূপরেখা বা এসওপি (SOP) দেওয়া হয়েছে, সেই কঠোর শৃঙ্খলা মেনেই তিনি এগোবেন। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের আসল ধার লুকিয়ে ছিল এর ঠিক পরের বাক্যটিতে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যেকোনো জিনিস শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে না হলে তার যে ফল, তা সেই অঞ্চলের ওপর পড়ে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মন্ত্রীর এই একটি বাক্যই বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, প্রাক্তন শাসক দলের জমানায় যেভাবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র পর্যটন কেন্দ্র গড়ার নামে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেই ধারাকে তিনি শক্ত হাতে দমন করতে চলেছেন।

বিগত ১৫ বছরের তৃণমূলী অপশাসনের জমানায় বাংলার পর্যটন ক্ষেত্র কীভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, তার খতিয়ান তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, “১৫ বছর ধরে টিএমসি জমানার আমলে যে কাজ হয়েছে, তা শৃঙ্খলাহীনতা ও আইন ভেঙে পর্যটন বৃদ্ধি করতে গিয়ে আখেরে ওই অঞ্চলের ক্ষতি করেছে।” উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের দিঘা কিংবা সুন্দরবন— সর্বত্র পর্যটনের নামে শুধু বেআইনি নির্মাণ, সিন্ডিকেট রাজ আর পরিবেশ আদালতের নিয়ম বুড়ো আঙুল দেখানোর যে উৎসব চলেছিল, নতুন পর্যটন মন্ত্রী প্রথম দিনেই তার ময়নাতদন্ত করে দিলেন। ভোটবাক্সে মানুষ যে পরিবর্তনের রায় দিয়েছে, মন্ত্রীর এই আক্রমণ তারই প্রতিফলন।

এখন প্রশ্ন একটাই…এতদিন পর্যটন মানেই ছিল কিছু চটকদারি উৎসব আর গুটিকয়েক নেতার পকেট ভরানোর ফন্দি। কিন্তু ডক্টর শঙ্কর ঘোষের মতো একজন শিক্ষিত এবং দূরদর্শী নেতার হাতে এই দপ্তরের দায়িত্ব আসায় আশার আলো দেখছে আপামর পর্যটন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আমজনতা।প্রথম দিনেই তোপ দেগে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, শুধু পর্যটক টানাই লক্ষ্য নয়, আইন মেনে এবং স্থানীয় পরিবেশকে রক্ষা করে সুশৃঙ্খল পরিকাঠামো গড়ে তোলাই আসল কাজ। এখন দেখার, নতুন মন্ত্রীর এই ‘শৃঙ্খলার দাওয়াই’ প্রাক্তন জমানার রেখে যাওয়া ১৫ বছরের জমে থাকা আবর্জনা কতটা দ্রুত পরিষ্কার করতে পারে! নজর থাকবে আমাদের।