প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটের ময়দানে পারদ চড়ছে। কিন্তু আজ শান্তিপুরে যা ঘটল, তা দেখে থমকে গিয়েছে গোটা রাজ্য। জনসভার ভিড় ছাপিয়ে হঠাৎই এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায় কি তবে হারের আগাম প্রতিধ্বনি? শান্তিপুরের হাই-ভোল্টেজ সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী যা বললেন, তাতে রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— তবে কি ২০২৬-এর চিত্রনাট্য লেখা হয়ে গিয়েছে? জনসমক্ষে দাঁড়িয়ে কেন তিনি ‘অস্তিত্ব রক্ষার’ লড়াইয়ের কথা তুললেন, তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

শান্তিপুরের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী এক বিস্ফোরক অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিজেপি নাকি এক বিশেষ ‘মাস্টারপ্ল্যান’ কষেছে। গণনার দিন সকাল থেকেই ‘বিজেপি জিতছে’ বলে চারদিকে একটি মনস্তাত্ত্বিক হাওয়া তৈরি করা হবে। এমনকি তিনি এও বলেন যে, কৌশলে নাকি বিজেপির শক্তিশালী জায়গাগুলোর ভোট আগে গণনা করানো হবে যাতে তৃণমূল কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া যায়। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারিতে যেখানে গণনা প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট গাণিতিক ও স্বচ্ছ নিয়মে চলে, সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে আগে বা পরে গণনা করানোর সুযোগ কোথায়? তবে কি হারের আগাম অজুহাত তৈরি করতেই এই ধরনের কাল্পনিক ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ সাজাচ্ছেন তিনি?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন দাবি করেছেন, তিনি মানুষের চোখমুখ দেখে বুঝেছেন তৃণমূলই জিতবে। কিন্তু যদি আত্মবিশ্বাস এতটাই তুঙ্গে থাকে, তবে কেন ‘বাঁচার প্রশ্ন’ বা ‘সন্তান-সন্ততির ভবিষ্যৎ’ নিয়ে হাহাকার শুরু করলেন? বিজেপি ঘনিষ্ঠ শিবিরের পাল্টা কটাক্ষ— গত কয়েক বছরে রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সন্দেশখালির মত ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা মুখ্যমন্ত্রী আঁচ করতে পেরেছেন। আর সেই ‘জনরোষের আগুন’ থেকে বাঁচতেই কি এখন থেকে ইমোশনাল কার্ড খেলছেন তিনি? বিরোধী নেতাদের দাবি, মানুষের চোখমুখ যদি সত্যিই দিদি পড়তে পারতেন, তবে বুঝতেন সাধারণ মানুষ এবার ‘পরিবর্তনের পরিবর্তন’ চাইছে।সাংবিধানিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ? গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি পরোক্ষভাবে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকেই কাঠগড়ায় তুললেন?

বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, যে নির্বাচনী পদ্ধতিতে তিনি নিজে তিনবার ক্ষমতায় এসেছেন, সেই পদ্ধতি নিয়েই এখন প্রশ্ন তোলা মানে নিজের পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়া স্বীকার করে নেওয়া। শান্তিপুরে দাঁড়িয়ে তাঁর এই মন্তব্য আসলে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকার শেষ চেষ্টা।

মুখ্যমন্ত্রী এই নির্বাচনকে ‘বাংলায় থাকার প্রশ্ন’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু বিজেপি শিবিরের প্রশ্ন— গত ১৫ বছরে যারা বাংলাকে দুর্নীতির আখড়া বানিয়েছে, তারা কোন মুখে বাংলার অস্তিত্ব রক্ষার কথা বলে? শান্তিপুরের সভা থেকে যে ‘আর্তনাদ’ উঠে এল, তা কি তবে এক দীর্ঘ রাজনৈতিক সাম্রাজ্যের পতনের সুর? বাংলার মানুষ কি তবে এবার সত্যিই ‘বাঁচার প্রশ্নে’ পদ্মফুলকেই বেছে নিতে চলেছে? উত্তরের জন্য ৪ মে-র ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে আছে গোটা বাংলা।