প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা নির্বাচনের আবহে উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে রণহুঙ্কার ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার শিলিগুড়ির কাওয়াখালির জনসভা থেকে সরাসরি ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ এবং রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে একাসনে বসিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। মোদীর এই মন্তব্যের পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন’স নেক’ (Chicken’s Neck) নিয়ে সত্যিই কোনো বড়সড় নাশকতার ছক কষা হচ্ছে?

প্রধানমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানান, দেশের একতা নষ্ট করতে সক্রিয় একদল মানুষ, যাঁদের তিনি ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বলে অভিহিত করেন। মোদীর অভিযোগ, এই গোষ্ঠীটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোরকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছিল। তাঁদের লক্ষ্য ছিল উত্তর-পূর্ব ভারতকে মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা করে দেওয়া। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “বিজেপির কাছে শিলিগুড়ি করিডোর দেশের সুরক্ষা আর সমৃদ্ধির পথ। আমরা একে রক্ষা করতে এবং উন্নত করতে বদ্ধপরিকর।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে কেবল দেশবিরোধী শক্তির কথাই বলেননি, সরাসরি নিশানা করেছেন রাজ্যের শাসক দলকে। তিনি দাবি করেন, “যাঁরা দেশকে টুকরো করার হুমকি দেয়, তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের রাস্তা থেকে শুরু করে সংসদ পর্যন্ত সমর্থন জোগায়। এটাই ওদের আসল চেহারা।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁর অভিযোগের ইঙ্গিত পরিষ্কার—যাঁরা ভারতের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ জানায়, তাঁদের মদত দিচ্ছে রাজ্যের বর্তমান সরকার।
কেন শিলিগুড়ি করিডোর এত গুরুত্বপূর্ণ?

ভৌগোলিক দিক থেকে শিলিগুড়ি করিডোর অত্যন্ত সংবেদনশীল। নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেরা এই সংকীর্ণ পথটিই ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই করিডোরে কোনো অস্থিরতা তৈরি হলে গোটা দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। মোদী এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই এলাকার নিরাপত্তায় বিজেপি সরকার কোনো আপস করবে না।
সুরক্ষা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার
প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, বিজেপি সরকার শিলিগুড়ি করিডোরকে কেবল একটি রাস্তা হিসেবে দেখে না, বরং এটি দেশের প্রগতির করিডোর। তিনি বলেন, “আমরা নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছি এই অঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য, যাতে পর্যটন এবং বাণিজ্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।”

শিলিগুড়ির এই সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা কার্যত নির্বাচনী লড়াইকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেল। দেশাত্মবোধ এবং জাতীয় সুরক্ষার ইস্যু তুলে মোদী সরাসরি বাংলার মানুষের কাছে জানতে চেয়েছেন, তাঁরা দেশপ্রেমীদের পাশে থাকবেন নাকি ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’দের মদতদাতাদের সঙ্গে? প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণের পর এখন রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন—রাজ্যের রাজনীতিতে এই ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলবে?