প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে এবার মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত? শিলিগুড়ির কাওয়াখালির জনসভা থেকে সরাসরি তৃণমূলের ১৫ বছরের রাজত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে এই লড়াইয়ের সেনাপতি হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন বাংলার সেই তরুণদের, যারা গত দেড় দশকে তৃণমূলের শাসনকালকে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাক্ষুষ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা, “সময় এসে গিয়েছে হিসাব বুঝে নেওয়ার।”

রবিবার শিলিগুড়ির নির্বাচনী সভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই ভিড়ের সিংহভাগই ছিল নতুন প্রজন্মের ভোটার। তাঁদের দিকে আঙুল দেখিয়ে মোদী এক আবেগপূর্ণ কিন্তু তীক্ষ্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, “তৃণমূলের ১৫ বছরের কাজকর্ম আপনারা দেখেছেন। আজ এখানে এত তরুণ-তরুণীকে দেখছি। ১৫ বছর আগে আপনারা হয়ত প্রথম শ্রেণীতে প়ড়তেন। আজ আপনারা ভোটার, আপনারা রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে যাবেন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদী সরাসরি সেই প্রজন্মের কাছে পৌঁছে গিয়েছেন যারা তৃণমূল সরকারের নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে বেকারত্বের জ্বালা সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ঢঙে দাবি করেন যে, বিগত ১৫ বছরে রাজ্যে উন্নয়নের বদলে কেবল দুর্নীতির পাহাড় তৈরি হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “তৃণমূল কোনও কাজ করেনি। শুধু দুর্নীতিই করেছে।” মোদীর এই মন্তব্য আসলে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে থাকা ক্ষোভকে আরও উস্কে দেওয়ার চেষ্টা। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন দুর্নীতি—বিজেপি বারংবার যে ইস্যুগুলোকে হাতিয়ার করেছে, মোদী শিলিগুড়ির মাটি থেকে তাতে সিলমোহর দিয়ে দিলেন।

মোদীর ভাষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘পরিবর্তন’। তবে তা কেবল স্লোগানে নয়, ব্যালট বাক্সে। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজ যারা প্রাপ্তবয়স্ক, তাদের হাতেই ক্ষমতা রয়েছে এই ‘দুর্নীতির শাসন’ উপড়ে ফেলার। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, যে শিশুটি ১৫ বছর আগে স্কুলে প্রথম পা রেখেছিল, আজ সে শিক্ষিত যুবক বা যুবতী। তার চোখের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন থাকার কথা থাকলেও, তৃণমূলের শাসনে সেই স্বপ্ন আজ ধূলিসাৎ। তাই এই প্রজন্মের কাছেই তিনি আরজি জানিয়েছেন বাংলার ভাগ্য পরিবর্তনের।

উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখান থেকে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের ১৫ বছরের খতিয়ানকে যেভাবে মোদী তুলোধুনো করলেন, তাতে পরিষ্কার যে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি তরুণ ভোটব্যাঙ্ককে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ১৫ বছরের ‘দুর্নীতি’ বনাম আগামীর ‘সুশাসন’—এই লড়াইয়ে মোদী কি বাজিমাত করতে পারবেন? উত্তর দেবে সময়। তবে শিলিগুড়ির সভা থেকে মোদীর এই গর্জন যে তৃণমূল শিবিরে অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।