প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে সর্বত্র। প্রচারের ময়দানে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ রাজনৈতিক দলগুলি। ঠিক এই সময়েই এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে শিলিগুড়ির রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় তোলপাড় ফেলে দিলেন বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষ। আচমকাই অনির্দিষ্টকালের জন্য সমস্ত রকম নির্বাচনী প্রচার ও জনসংযোগ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা করলেন তিনি। ভোট না চেয়ে, এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য— এক নাবালিকা ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় ‘ন্যায়বিচার’।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার সকালে। শিলিগুড়ি শহরের প্রধাননগর থানা এলাকার গুরুংবস্তির এক নাবালিকা স্কুলছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। কুলিপাড়ার এক ঘর থেকে ওই নাবালিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, এলাকারই এক গৃহশিক্ষকের সঙ্গে ওই ছাত্রীর একটি সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এবং সেই সম্পর্কের টানাপড়েনের জেরেই মানসিক অবসাদে এই চরম পথ বেছে নিয়েছে কিশোরী। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ফুঁসে ওঠে শিলিগুড়ি।
ঘটনার পর থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন শংকর ঘোষ। তিনি মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং অভিযুক্ত গৃহশিক্ষককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পুলিশের তরফে কোনও জোরালো পদক্ষেপ বা মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি প্রার্থী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “শহরের মেয়েরা যদি নিরাপদ না থাকে, নাবালিকারা যদি বিচার না পায়, তবে এই ভোট প্রচারের কোনও অর্থ নেই।”
মঙ্গলবার সকাল থেকেই শিলিগুড়ির আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে অবস্থানে বসেন শংকর ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট দাবি— অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং এই ঘটনার পিছনে অন্য কোনও প্রভাবশালীর মদত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। তিনি ঘোষণা করেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত পুলিশ দোষীকে পাকড়াও করছে এবং নাবালিকার পরিবার বিচার পাচ্ছে, ততক্ষণ তিনি কোনও প্রচার মিছিলে পা মেলাবেন না। এই সিদ্ধান্তের ফলে শিলিগুড়ির বিভিন্ন ওয়ার্ডে আগে থেকে ঠিক হয়ে থাকা সমস্ত পথসভা ও বাড়ি বাড়ি প্রচার আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভোটের মুখে প্রার্থীর এমন ‘মানবিক’ অথচ ‘কঠোর’ অবস্থানকে সাধারণ মানুষের একাংশ সাধুবাদ জানালেও, রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিরোধীদের একাংশ এটিকে ‘নির্বাচনী স্টান্ট’ বলে কটাক্ষ করলেও, সাধারণ শিলিগুড়িবাসী কিন্তু বিচার চেয়ে প্রার্থীর এই পাশে থাকাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। এদিকে ঘটনার পর থেকেই প্রধাননগর থানা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের দাবি, তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
শিলিগুড়ির মত এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে প্রচারের মাঝপথে এমন কর্মসূচি নিঃসন্দেহে এক বিরল ঘটনা। শংকর ঘোষের এই অবস্থান কি শেষ পর্যন্ত পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বিচার ত্বরান্বিত করবে? নাকি এই প্রচার বিমুখতা ভোটের বাক্সে অন্য কোনও প্রভাব ফেলবে? তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত শিলিগুড়ির মোড়ে মোড়ে রাজনীতির চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে ওই নাবালিকার বিচারের দাবি।