প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখনই দেখেন যে, তার সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠছে, তখনই তিনি বেছে বেছে কেন্দ্রীয় সরকারের ঘাড়ে সমস্ত দোষ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। বিজেপি দাবি করছে, এসআইআর প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হলে প্রচুর অবৈধ বাংলাদেশিদের নাম বাদ যাবে। আর এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী আবার একটি অন্য দাবি করে বসেছেন। তার যুক্তি, সীমান্ত দেখে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিএসএফ। তাহলে সেই সীমান্ত দিয়ে কি করে লোক আসছে? অর্থাৎ সমস্ত দোষ সীমান্তের অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ঘাড়েই চাপানোর চেষ্টা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিনি যদি ভাবেন যে, সমস্ত দোষ কেন্দ্রের ঘাড়ে চাপিয়ে তিনি পার পেয়ে যাবেন, তাহলে ভুল করছেন। কেননা মুখ্যমন্ত্রী এই বক্তব্য রাখার সাথে সাথেই পাল্টা তাকেই চোখা চোখা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
অতীতেও এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা গিয়েছে যে, সীমান্ত দেখে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিএসএফ। তাই সীমান্ত দিয়ে যদি কোনো লোক এপারে আসে, তাহলে তার ব্যর্থতা কেন্দ্রের। কিন্তু এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং সরকার যে একটি বড় ব্যর্থতা করে রেখেছেড় সেটা হয়ত অনেকেই জানেন না। তাই আজ সেই তথ্য দিতে গিয়ে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য যে জমি রাজ্য সরকারের কাছে চাওয়া হয়েছিল, সেই জমি কেন এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তার দাবি, গোটা বিষয়ের সমস্যা সমাধানের জন্য নবান্নে পর্যন্ত গিয়েছিলেন অমিত শাহ। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের যে সীমান্ত রয়েছে, যেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া উচিত, সেখানে পর্যাপ্ত জমি দেয়নি রাজ্য সরকার। যার ফলে সীমান্ত থেকে খুব সহজেই অনুপ্রবেশ হচ্ছে। আর এই অনুপ্রবেশ করানোর পেছনে এবং রোহিঙ্গাদের পশ্চিমবঙ্গে আনার পেছনে যে তৃণমূলের গোপন এজেন্ডা এবং ভোটব্যাংক রয়েছে, সেই কথাও বুঝিয়ে দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই সীমান্তের অনুপ্রবেশ নিয়ে কেন্দ্রকে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে দায়ী করেছেন, তা নিয়ে শুভেন্দু বাবুকে প্রশ্ন করা হয়। আর সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “৫৪০ কিলোমিটার জায়গা, উনি জমি দেননি কেন? ভারত বাংলাদেশ বর্ডার ৪০০০ কিলোমিটার। মেঘালয় আছে, ত্রিপুরা আছে, আসাম আছে, পশ্চিমবঙ্গ আছে। পশ্চিমবঙ্গে ২২০০ কিলোমিটার। ৫৪০ কিলোমিটার বেড়া দেওয়া যায়, এরকম জায়গা উনি দেননি। উনি আগে জমি দিয়ে দিন। তারপরে এই অভিযোগগুলো করবেন। এর উত্তর আমরা দেব। জমি চাইতে অমিত শাহ নবান্ন পর্যন্ত গিয়েছিলেন। উনি আগে জমি দিন। তারপর এরকম কিছু হলে বিএসএফকে আমরা ধরব, ওনাকে ধরতে হবে না।”