প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-অনুপ্রবেশ রুখতে এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের জনসভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জমি আটকে রাখার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন তিনি। শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৬০০ একর জমি দিচ্ছে না তৃণমূল সরকার। একই সঙ্গে তাঁর ঘোষণা, “বাংলায় বিজেপি সরকার আসার ৪৫ দিনের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হবে।”

অমিত শাহ এদিন তাঁর ভাষণে অভিযোগ করেন, বিএসএফ (BSF) আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ৬০০ একর জমির আবেদন জানিয়ে আসছে। কিন্তু ‘মমতাদিদি’র সরকার সেই জমি হস্তান্তরে বাধা দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সীমান্ত সুরক্ষা একটি জাতীয় ইস্যু হলেও রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে বহু এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এখনও অরক্ষিত থেকে গিয়েছে। শাহের দাবি, এই অসহযোগিতার মূল কারণ হলো ‘ভোটব্যাংকের রাজনীতি’।

গঙ্গারামপুরের ভিড়ে ঠাসা জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একপ্রকার গ্যারান্টি দিয়ে বলেন, “আপনারা রাজ্যে পরিবর্তন আনুন। আমি কথা দিচ্ছি, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে কাঁটাতারের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে।” শাহের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, সীমান্ত সুরক্ষাকে সামনে রেখে শাহ আসলে অনুপ্রবেশ ইস্যুকেই ভোটারদের সামনে বড় করে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ২,২১৭ কিমি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশে ভৌগোলিক কারণে বা জমির অভাবে এখনও কাঁটাতার বসানো সম্ভব হয়নি। বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয়েছে যে, কাঁটাতার না থাকায় অন্ধকারে বা ঝোপঝাড়ের সুযোগ নিয়ে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণ করে না দিলে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে কাজ শেষ করা অসম্ভব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার অবশ্য আগে দাবি করেছে যে, সীমান্ত এলাকায় জনবসতি সরাতে গেলে স্থানীয় মানুষের স্বার্থ বিঘ্নিত হবে, তাই জমি অধিগ্রহণে দেরি হচ্ছে।

এদিন শাহের বক্তব্যে পরিষ্কার যে, আসন্ন নির্বাচনে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত সুরক্ষা বিজেপির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে। গঙ্গারামপুর ও বালুরঘাটের মত সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে অনুপ্রবেশ একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। অমিত শাহের এই ‘৪৫ দিনের সময়সীমা’ সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

অমিত শাহের আজকের এই আক্রমণ তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ দল। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে সরব, তখন শাহ পাল্টা সীমান্ত সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে রাজ্যকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিলেন।