প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
সিঙ্গুরে টাটারা চলে যাওয়ার প্রায় ১৭ বছর পর গতকাল সেখানে সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সিঙ্গু বাসী তো বটেই, রাজ্যবাসীরও নজর ছিল সেই দিকে। সকলেই প্রত্যাশা করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী যখন সিঙ্গুরে আসছেন, যখন সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, তখন তিনি প্রত্যাশা পূরণ করে শিল্প সম্ভাবনার ব্যাপারে বড় কোনো বার্তা দেবেন। কিন্তু সিঙ্গুরের মাটিতে তাদের ফিরে আসা বা শিল্প স্থাপনের ব্যাপারে তেমন কোনো কথাই শোনা গেল না প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। যার ফলে অনেকেই হতাশ বলেই দাবি করা হচ্ছে। এমনকি সিপিএম থেকে শুরু করে কংগ্রেস এবং তৃণমূলের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করা হচ্ছে। তবে সিপেমূল যতই গোটা বিষয়টিকে নিয়ে আসর মাতানোর চেষ্টা করুক না কেন, পাল্টা প্রধানমন্ত্রী কেন সিঙ্গুরের মাটিতে এসেও শিল্প নিয়ে কিছু বললেন না, তা নিয়ে যখন তারা একটা বিভ্রান্তি প্রচার করার চেষ্টা করছে, তখন চাঁচাছোলা জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
গতকাল সিঙ্গুরে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে অনেকেই প্রত্যাশা করেছিলেন যে, তিনি শিল্প নিয়ে সিঙ্গুরের মত জায়গায় বড় কোনো বার্তা দেবেন। কারণ, সামনেই যখন বিধানসভা নির্বাচন আছে, তখন মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তিনি টাটা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনার কোনো কথা হয়ত তার বক্তব্যে বলতে পারেন। কিন্তু সেরকম কোনো কথা প্রধানমন্ত্রী বলেননি জন্য তৃণমূল থেকে শুরু করে সিপিএমের পক্ষ থেকে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়ে গিয়েছে। তারা বলতে শুরু করেছেন যে, বিজেপি কোনোদিনই মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন না। তাই প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরে এসেও শিল্প স্থাপনের ব্যাপারে তেমন কোনো কথাই বললেন না। তবে দেশের প্রধানমন্ত্রী কেন এই বিষয় নিয়ে কথা বলবেন, তা নিয়ে পাল্টা যুক্তি দিচ্ছে বিজেপি। আর সেই কথা বলতে গিয়েই সিপেমূল যে ধরনের কুৎসা এবং অপপ্রচার করে বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদীকে খাটো করার চেষ্টা করছে, তার জবাব দিলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি।
এদিন বাম এবং তৃণমূলের পক্ষ থেকে যে ধরনের কথা বলা হচ্ছে, মোদীর বক্তব্যে কেন সিঙ্গুরের প্রসঙ্গ উঠে এলো না? কেন শিল্প স্থাপনের বিষয়টি তিনি তুলে ধরলেন না? সেই বিষয়ে সুকান্তবাবুকে প্রশ্ন করা হয়। আর সেই প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “সিঙ্গুরের জন্য তো প্রধানমন্ত্রীর দরকার নেই। আমরা আছি। আমরা ঠিক করবো, কোথায় শিল্প হবে। বাংলার নেতারা ঠিক করবেন। আমি তো সবার প্রথমেই বলেছি, আমরা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছি, সিঙ্গুরে টাটাদের আমরা ফিরিয়ে আনবো।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক কথাই বলেছেন সুকান্ত মজুমদার। প্রধানমন্ত্রী তো অনেক বড় মাপের ব্যাপার। তিনি, তার মুখ, তার জনপ্রিয়তা দেখে বাংলার ভোট হবে, তা অত্যন্ত স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলার নেতারা জানেন, বাংলার মাটির পরিস্থিতি, বাংলার মানুষের প্রত্যাশা। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তারা ক্ষমতায় এসে সেই সমস্ত দাবি তুলে ধরবেন। আর সেই অনুযায়ী সেই প্রত্যাশা নিশ্চিতভাবেই বাংলার মানুষের পূরণ হবে। তার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আলাদাভাবে তার বক্তব্যে শিল্প স্থাপন হবে, এটা বলার কোনো বিষয় নেই। আর রাজ্য বিজেপির নেতারা যখন বলছেন যে, ক্ষমতায় এলে তারা সিঙ্গুরে টাটাকে নিয়ে এসে দেখাবেন, তখন নিশ্চিতভাবেই তাদের ওপর ভরসা রাখলেই আসল কাজটি হয়ে যাবে। তাই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সিঙ্গুরের শিল্প সম্ভাবনার প্রসঙ্গ আসেনি বলে যারা ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন, তাদের পাল্টা যুক্তি দিয়ে চাপে ফেলে দিলেন সুকান্ত মজুমদার বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।