প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এসআইআরের মূল প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের শুরু হয়ে গিয়েছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম দিচ্ছেন বিএলওরা। অনেক ক্ষেত্রে তাদেরকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ করতে বলার কারণে তারা ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছেন বলেই অনেকে মনে করছেন। আর এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে এক বিএলওর মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, এসআইআর নিয়ে যে কাজকর্ম রয়েছে এবং যে চাপ রয়েছে, তার কাছে নতি স্বীকার করেই প্রাণ হারিয়েছেন এই বিএলও। তবে এই রাজ্যের বুকে যারা বুথ লেভেল অফিসার হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের যে শাসক দলের নেতাদের চাপের কাছে মাথা নত করে অনেক ক্ষেত্রে কাজ করতে হচ্ছে তা একের পর এক চিত্র সামনে আসার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিরোধীদের কাছে। আর এবার এক বিএলওর মৃত্যুর খবর নিয়ে প্রশ্ন করতে তৃণমূলকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী‌।

বলা বাহুল্য, এই রাজ্যের বুকে বারবার করে তৃণমূল একটা বিষয় প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে যে, এসআইআর হলে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাবে। এমনকি যাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রেও তৃণমূল দাবি করছে যে, এসআইআরের আতঙ্কে তারা প্রাণ হারাচ্ছেন। আর এসবের মধ্যেই এক বিএলওর মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই নানা মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, বিএলওদের যে কাজের চাপ, তা তারা নিতে পারছেন না। যার ফলে সেই মানসিক চাপেই একজন প্রাণ হারালেন। তবে এক্ষেত্রেও তৃণমূলের চাপ রয়েছে বলে দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন সাংবাদিকরা শুভেন্দুবাবুকে প্রশ্ন করেন যে, রাজ্যে এক বিএলও প্রাণ হারিয়েছেন। আর এক্ষেত্রে অনেকেই বলছেন যে, চাপের কাছে তিনি নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। আর সেই প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “কোনো বিএলওকে বিজেপির প্রেসার দেওয়ার সুযোগ নেই। আর বিজেপির লোকেদের সেই মানসিকতাও নেই। আমরা এগুলো করি না। এমনিতেই সকলে জানে যে, পুলিশ মিথ্যা মামলা দেয়। আর সত্যিকারের যদি কাউকে ধমকায়, তাহলে পুলিশ মামলা করবে, বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাবে। যদি কাউকে চাপ দিয়ে থাকে তৃণমূলই চাপ দিয়েছে।” অর্থাৎ বিএলওরা কাজের চাপে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেন না বলে এরকম একটা পরিবেশ, এরকম একটা চর্চা বিভিন্ন মহলে তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে এই রাজ্যে্য শাসক দল যেভাবে প্রতিহিংসার রাজনীতি করে, তাতে কোনো বিএলও হয়তো নিরপেক্ষতা সহকারে কাজ করতে চেয়েছিলেন এবং সেই কারণে তাকেও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে এবং তার ফলেই একজনের মৃত্যু হয়েছে বুঝিয়ে দিয়ে শাসকের চাপ বাড়িয়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা।