প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কিছুদিন আগেই যুবসাথী নামে একটি প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। যদিও বা সেটাকে ঢপের চপ বলেই দাবি করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই সেই যুবসাথী প্রকল্পের জন্য অফলাইনে ফর্ম ফিলাপ শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করেছে প্রশাসন। প্রথম দিন শুধুমাত্র অফলাইনে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। আর সেখানে যেভাবে ভিড় উপচে পড়েছে, যেভাবে প্রচুর যুবক যুবতী শিক্ষিতরা লাইন দিয়েছেন, তা দেখে চোখ কপালে উঠেছে রাজ্যবাসীর। একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, এই রাজ্যে ঠিক কত পরিমাণে বেকাররা রয়েছে। আর সেই সময়ই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন অফলাইনে এই প্রক্রিয়া করা হচ্ছে? সমস্ত কিছুই যখন অনলাইনে হচ্ছে, তাহলে কেন এটাতে অনলাইন করা হচ্ছে না? পরবর্তীতে অবশ্য অনলাইন প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েও ফর্ম ফিলাপ করা যাবে বলে জানিয়ে দেয় রাজ্য। আর এই পরিস্থিতিতে যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল নেতারা কথায় কথায় দাবি করেন যে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় শুনানিতে প্রচুর মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন, যারা এর জন্য নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাড় করান, সেই তৃণমূলের সরকার কেন অফলাইনে এত বেকার যুবক যুবতীদের লাইনে দাঁড় করাচ্ছে? তাদের এই ক্ষেত্রে কেন দ্বিচারিতা, এবার তা নিয়েই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে মোক্ষম প্রশ্নের মুখে ফেলে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বর্তমানে পুরো যুগটাই সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন সরকারি কাজ হোক বা বিভিন্ন জায়গায় আবেদন। সমস্ত কিছুই এখন অনলাইনের মাধ্যমে হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ করেই এই রাজ্য সরকার যে যুবসাথী নামক প্রকল্পের ঘোষণা করেছে, তা প্রথম দিন অফলাইনে করার কথা ঘোষণা করা হয়। আর সেই বিষয়টি নিয়েই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যে, এইভাবে এত বেকার যুবক-যুবতীদের হেনস্থা করার মানেটা কি? দূর দূরান্ত থেকে তারা বাইকের তেল খরচ করে, কেউ বা বাসে করে এই যে ফর্ম ফিলাপ করতে আসবেন, এই টাকাটা সরকার তাদের দেবে তো? কেন অফলাইনের বদলে অনলাইনে গোটা প্রক্রিয়া করতে পারলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীতে অবশ্য অনলাইনে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এবার যে তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআরের লাইনে মানুষ দাঁড়ানোর কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, তাদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলে দাবি করে, সেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাদের সর্বময় নেত্রীকেই যুব সাথী প্রকল্পের জন্য যুবক যুবতীদের এইভাবে লাইনে দাঁড় করানো নিয়ে পাল্টা প্রশ্নের মুখে ফেললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি বলেন, “আপনি যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন করেননি কেন? এসআইআরের ক্ষেত্রে আপনার লোকেরা তো নাম ভুল করেছে। আপনি আপনার সরকারি কর্মচারীদের পাঠিয়েছেন, তারা আমাদের নামের বানান ভুল, পদবী ভুল করেছে। তারপরে লোকেদের এসআইআরের লাইনে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে বাধ্য করেছেন। আর এখন আপনি পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ যুবক যুবতীদের লাইনে দাঁড় করাচ্ছেন কেন? আপনি তো অনলাইন করে দিতে পারতেন। এখন তো সবকিছুই অনলাইনে হয়। তাই এসব করে কিছু হবে না।”