প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এসআইআর প্রক্রিয়াকে বানচাল করার জন্য প্রথম দিন থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস এর বিরোধিতা করছে। আর যখন তারা বুঝতে পারছে যে, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে, তখন বারবার করে সেই কমিশনকে চিঠি দিয়ে এবং কমিশনের দরজায় গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রভাব বিস্তার করে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে, তারা যেভাবে অবৈধ ভোটারদের রেখে দিতে চাইছে, সেটা কেন কমিশন করছে না? তাই সেই কারণে এসআইআর প্রক্রিয়াকে বানচাল করার সমস্ত কৌশল বেছে নিয়েছে এই রাজ্যের শাসক দল বলেই অভিযোগ বিরোধীদের। তবে বিরোধীরা অবশ্য পাল্টা নিজেদের জেদ বজায় রেখে জানিয়ে দিয়েছে, ২০২৪ সালে যে ভুতুড়ে ভোটার লিস্ট দিয়ে ভোট হয়েছিল, এবার যেন তা না হয়। এক্ষেত্রে স্বচ্ছ নির্বাচন করতে অবৈধ এবং ভুয়ো ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়াই নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। আর এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে যেভাবে এসআইআরের বিরুদ্ধে মন্তব্য করা হচ্ছে এবং গোটা প্রক্রিয়াকে ভন্ডুল করার চক্রান্ত হচ্ছে, এবার তার বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।

এই রাজ্যের শাসক দল এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে এতটাই ভীত যে, তারা আদালত পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। গোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তারা এমন সমস্ত প্রক্রিয়া অবলম্বন করছে যাতে এসআইআর প্রক্রিয়াটিকেই এই রাজ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু শুধু তো পশ্চিমবঙ্গে নয়, ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যেও এই এসআইআর হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এই বাংলার সরকার কেন এর বিরোধিতা করছে, তা নিয়ে অনেকের মনেই সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। যার ফলে অনেকেই বলছেন, আসলে এখানে অবৈধ ভোটারদের কাজে লাগিয়েই তো তৃণমূল প্রত্যেকটি নির্বাচনে জয়লাভ করেছে। আর এবার যখন তাদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে, যখন তারা বুঝতে পারছে যে, মানুষ তাদের আর সমর্থন করবে না, তখন ভোটার কার্ডে স্বচ্ছতা অবলম্বন করলে যে তাদের হার নিশ্চিত হয়ে যাবে, তা বুঝতে পেরেই অবৈধ ভোটারদের রেখে দিতেই তৃণমূলের এই এসআইআর বিরোধিতা বলেই দাবি করছেন বিজেপি নেতারা। আর তার মধ্যেই আজ সাত সকালে বড় মন্তব্য করলেন শমীক ভট্টাচার্য।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আর সেখানেই তিনি বলেন, “এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। যত চিৎকার চেঁচামেচি, সমস্ত কিছু পশ্চিমবঙ্গে। পুরো ব্যবস্থাটাকে নষ্ট করে দেওয়ার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস সব রকম চেষ্টা করে যাচ্ছে। তৃণমূলের এজেন্ডা হচ্ছে, যে ভোটার লিস্ট আছে, সেই রোহিঙ্গাদের নিয়ে, বাংলাদেশিদের নিয়ে নির্বাচন করতে হবে। এত পাসপোর্ট ইস্যু হয়ে গেছে, পুলিশ ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব কার? কেন্দ্রীয় সরকারের নয়, রাজ্য সরকারের। সর্বত্র একটা রেকেট কাজ করছে। বঙ্গবাসী এখনও নিজেদের ভালো-মন্দ বুঝতে পেরেছেন কিনা, সেটা ভোটের ফলাফলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।”