প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাদের দলদাস প্রশাসনের অঙ্গ হিসেবে বেশ কিছু আধিকারিক ভেবেছিলেন যে, তৃণমূল যেটা বলে দেবে, সেই অনুযায়ীই তারা কাজ করবেন। আর তাতে যদি কমিশনের নির্দেশ অমান্য হয়, তাহলে হবে। কিন্তু তৃণমূল তাদের পাশে আছে। তাই তাদের কেউ কিছু করতে পারবে না। কিন্তু বারবার করে নির্বাচন কমিশন দিল্লি থেকে একটা বার্তা রাজ্যের কাছে দিয়েছে যে, কোনোভাবেই যেন এসআইআরের কাছে অনিয়ম না হয়। অনিয়ম ধরা পড়লে তারা কিন্তু কড়া ব্যবস্থা নেবে। সম্প্রতি দিল্লির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলো। কিন্তু তারপরেও যখন বেশ কিছু আধিকারিক নিজেদের শোধরায়নি, যখন তারা কর্তব্যে গাফিলতি করেছে বলে খবর এসেছে, ঠিক তখনই রাজ্যের অপেক্ষা না করে এবার সেই আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ শুরু করে দিলো নির্বাচন কমিশন।

এই রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া যেভাবে চলছে, তাতে বেশ কিছু ইআরও এবং এইআরওর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছিলো। এমনকি রাজ্যের কাছে গ্রুপ বি অফিসার চাওয়া হলেও সেক্ষেত্রেও অনিয়ম করা হয়েছে বলে খবর আসছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সমস্ত ইআরও এবং এইআরওদের সতর্ক করে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তারা যদি নিয়মের বাইরে কাজ করে, তাহলে নির্বাচন কমিশনও প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারে। এমনকি কমিশন কেন অনিয়ম করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তা নিয়েও তার ক্ষোভের কথা ব্যক্ত করেন শুভেন্দুবাবু। আর এসবের মধ্যেই গতকাল রাজ্যের অপেক্ষা না করে সাত জন এইআরওকে সাসপেন্ড করে দিলো নির্বাচন কমিশন।

সূত্রের খবর, মালদা থেকে শুরু করে মুর্শিদাবাদ, রাজ্যের একাধিক জেলার সাত জন এইআরওকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই বিষয়টি জানিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে কমিশনের পক্ষ থেকে একটি চিঠিও দেওয়া হয়েছে। যেখানে এই সাত জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর এই খবর সামনে আসার পরেই অনেকেই খুশি তারা বলছেন, এবার অন্তত বাকি যে সমস্ত আধিকারিকরা রয়েছেন, যারা অনিয়ম করে কর্তব্যে গাফিলতি করে ওই তৃণমূলের কথায় দলদাসের মত কাজ করছিলেন, তারা অনেকটা সমঝে যাবেন। তারাও এবার অনিয়ম করতে অনেকটাই ভয় পাবেন। ফলে কমিশনের এই ধরনের সিদ্ধান্ত বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা পালনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন ছিলো বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।