প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
তৃণমূল কংগ্রেস মনে করে যে, পশ্চিমবঙ্গটা তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আর সেই কারণে এখানে বিরোধী দল বলে কিছু থাকবে না। যারাই লড়াই আন্দোলন করবে, তারা শাসকের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবে না। বিভিন্ন জায়গায় বিরোধী নেতারা কোনো কর্মসূচি করতে গেলেই তাদের তৃণমূলের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। আর রাজ্যের যিনি মুখ্যমন্ত্রী, তার বিধানসভা কেন্দ্রে অন্তত গণতন্ত্রটুকু থাকবে, এটাই বিরোধী নেতারা আশা করেন। কিন্তু সেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও যে গণতন্ত্র বলে অবশিষ্ট কিছু নেই, এমনকি এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের যিনি প্রধান মুখ, তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তিনি যে বিরোধীদের কোনো কর্মসূচি করতে দেবেন না, তা আরও একবার আজ স্পষ্ট হয়ে গেল। অন্তত তেমনটাই দাবি করছে বিরোধীরা। যেখানে সুকান্ত মজুমদার আজ ভবানীপুরে একটি কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন। আর সেখানে গিয়েই বেশ কিছু মানুষ যারা নিজেদের তৃণমূল কর্মী বলে পরিচয় দেন, তারা জয় বাংলা স্লোগান তুলতে শুরু করেন। এমনকি এটাও বলতে শুরু করেন যে, বিজেপির যে কোনো নেতা এলেই তাদের এইভাবে জয় বাংলা স্লোগান শুনতে হবে। তবে যে পশ্চিমবঙ্গে সংস্কৃতির রাজ্য, সেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে এইভাবে দুষ্কৃতীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এবং যেভাবে তারা গণতন্ত্রকে রীতিমত চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আজ তৃণমূলের রুচিবোধ নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস গোটা রাজ্যটাকে সন্ত্রাসের আতুড়ঘরে পরিণত করেছে। সব জায়গায় ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করে রেখেছে বলেই অভিযোগ করে বিরোধীরা। যেখানেই বিজেপি নেতারা কোনো কর্মসূচি করতে যান, সেখানেই তাদের বাধা দান করা হয়। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, যিনি নিজের বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে এত কনফিডেন্ট, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেখানেও বিরোধীরা কোনো কর্মসূচি করতে পারবে না? এই প্রশ্ন বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে রয়েছে। আর আজ সেখানে সুকান্ত মজুমদার পৌঁছতেই যে অসভ্যতা তৃণমূলের পক্ষ থেকে কিছু মানুষ করলেন, তাতে এরাই যদি তৃণমূলের সম্পদ হয়, তাহলে তৃণমূল কাদের নিয়ে দল চালাচ্ছে, সেই বিষয়টি তুলে ধরেই পাল্টা খোঁচা দিলেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ।
এদিন এই ব্যাপারে সুকান্তবাবুকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। আর সেই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “এটা ভারতবর্ষের এলাকা। ভারতবর্ষের আইন, ভারতবর্ষের সংবিধান সবথেকে বড়। ভারতবর্ষের আইন আমি সহ আপনাদের সবাইকে অধিকার দিয়েছে, যে যার মতামত অনুসারে রাজনৈতিক দল করবে, প্রচারে যাবে। এইসব মদারু, পাতাখোরদের ধরে নিয়ে এসেছে। এই যদি পার্টির অবস্থা হয়, এক একজনের ছবি দেখান তো! সমাজে এদের কি অবদান রয়েছে? এরা যদি তৃণমূল কংগ্রেসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস দলটার কি অবস্থা? এই সমস্ত পাতাখোর, পাউচখোর সকালবেলা এখানে চলে এসেছে।”