প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বোলপুরের এক বিশাল জনসভা থেকে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জলজীবন মিশনের টাকা থেকে শুরু করে শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য রক্ষা— একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। শাহের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

এদিন বোলপুরের সভা থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে নিশানা করে অমিত শাহ বলেন, “মোদীজি জলজীবন মিশনের জন্য কোটি কোটি টাকা পাঠিয়েছিলেন যাতে বাংলার প্রতিটি ঘরে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছোয়। কিন্তু আপনাদের কাছে কি সেই টাকা পৌঁছেছে?” জনতাকে উদ্দেশ্য করে এই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি নিজেই উত্তর দেন, “তৃণমূলের গুন্ডারা সেই সব টাকা খেয়ে নিয়েছে। সাধারণ মানুষের উন্নয়নের টাকা আজ দুর্নীতির পকেটে চলে যাচ্ছে।”

এলাকার রাস্তার বেহাল দশা নিয়েও সরব হন শাহ। ময়ূরেশ্বরের একটি রাস্তার উদাহরণ টেনে তিনি কটাক্ষ করেন, “এখানে এমন রাস্তা বানানো হয়েছে যা হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসে। এই কি উন্নয়নের নমুনা?” পরিকাঠামো নির্মাণে ব্যাপক কাটমানি ও দুর্নীতির দিকেই তিনি আঙুল তুলেছেন।

শান্তিনিকেতন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহ্য নিয়েও তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, “শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘর পর্যন্ত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যারা বাঙালির আবেগ এবং ঐতিহ্য রক্ষা করতে পারে না, তারা বাংলার সংস্কৃতিকেও রক্ষা করতে পারবে না।” এর বিপরীতে মোদী সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি বলেন, “মোদীজিই শান্তিনিকেতনকে বিশ্ব দরবারে ইউনেস্কোর (UNESCO) স্বীকৃতি এনে দিয়েছেন। বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানানোই আমাদের লক্ষ্য।”

বাঙালি ভাবাবেগকে স্পর্শ করে অমিত শাহ এদিন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেন। তিনি বলেন, “বাংলা ভাষাকে ‘শাস্ত্রীয় ভাষা’ (Classical Language) হিসেবে মর্যাদা দেওয়ার কাজ মোদীজিই করেছেন।” তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বাংলার ভাষা ও সাহিত্যকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বক্তৃতার শেষে অমিত শাহ বীরভূমের মানুষকে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে বলেন যে, দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়তে এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিজেপিই একমাত্র বিকল্প। শাহের এই কড়া বার্তার পর পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি ঘাসফুল শিবিরও। সব মিলিয়ে শাহের এই বীরভূম সফর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও তপ্ত করে তুলল।