প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ইতিমধ্যেই বেজে গিয়েছে। আর তার সাথে সাথেই বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে উত্তাপ তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী বা SIR (Special Intensive Revision)-এর সাপ্লিমেন্টারি (অতিরিক্ত) তালিকা প্রকাশ পেতেই রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশ করা নিয়ে কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, স্বচ্ছ তালিকা তৈরি হলে ‘ভুয়া ভোটার’ বা ‘ছাপ্পা’র রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কি এখন থেকেই পরাজয়ের অজুহাত খুঁজছেন তৃণমূল নেত্রী? এই প্রশ্ন ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে হাসির রোল উঠেছে।

মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, সোমবার মধ্যরাতে কেন এই গুরুত্বপূর্ণ তালিকা বের করা হলো? তাঁর প্রশ্ন, “স্বচ্ছতা থাকলে কেন দিনের আলোয় তালিকা প্রকাশ করা হলো না? কেন এত ভয়? বিচারকরা তো অনেক আগেই অনুমতি দিয়ে দিয়েছিলেন, তাহলে আপনারা আরও ছয়-সাত দিন সময় কেন নিলেন?” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, এই বাড়তি সময়ে তালিকায় কারচুপি করা হয়েছে এবং কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের অঙ্গুলিহেলনে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে পছন্দের নাম ঢোকানো হয়েছে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, পুরো লিস্ট খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে আরও কী কী বাদ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করেছেন যে, ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার আতঙ্কে বা এই সংক্রান্ত দুশ্চিন্তায় রাজ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ২২০ জন মারা গিয়েছেন। এমনকি গত সোমবারও নাকি এই উদ্বেগের কারণে দু’জন আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বুথ বা ব্লক স্তরে এখনও তালিকা টাঙানো হয়নি, যার ফলে সাধারণ মানুষ অন্ধকারে রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী এই পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে তুলে ধরে জানিয়েছেন, যেটুকু নাম উঠেছে তা তিনি কোর্টে যাওয়ার কারনেই উঠেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক দাবির পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি বিজেপি নেতৃত্ব। পদ্ম শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ডিজিটাল যুগে নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে যেকোনো সময় তালিকা বা তথ্য আপলোড হওয়া একটি অত্যন্ত সাধারণ ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া। একে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দাগিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আসলে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রম ছড়াতে চাইছেন। বিজেপির এক শীর্ষ নেতার কটাক্ষ, “যাঁরা সারা বছর ভুয়া ভোটার আর অনুপ্রবেশকারীদের মদতে বৈতরণী পার হতে চান, স্বচ্ছ তালিকা তৈরি হলে তাঁদের তো ভয় লাগবেই। ছাপ্পা ভোটের কারিগরদের কাছে নির্ভুল ভোটার তালিকা আতঙ্কের কারণ হওয়াই স্বাভাবিক।”

মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দাবিকেও নস্যাৎ করেছে বিজেপি। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, রাজ্যে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, কর্মসংস্থানের অভাব বা ব্যক্তিগত কারণে ঘটা মৃত্যুগুলোকে মুখ্যমন্ত্রী এখন নির্লজ্জভাবে ভোটার তালিকার ওপর চাপিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছেন। বিজেপি নেতৃত্বের প্রশ্ন— “তালিকায় স্বচ্ছতা এলে যদি অনুপ্রবেশকারী ও ভুয়া ভোটারদের নাম বাদ যায়, তবে তাতে মুখ্যমন্ত্রীর এত গায়ে লাগছে কেন?”

বিরোধীদের দাবি— কমিশন সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই কাজ করছে। কমিশনের ওপর বারংবার চাপ সৃষ্টি করে আধিকারিকদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধী শিবিরের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনে পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে বুঝেই কি এবার সরাসরি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করছেন মমতা? এই নিয়েই এখন সরগরম বাংলার রাজনীতি।