প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এতদিন সকলের মধ্যেই একটা প্রশ্ন ছিল যে, ইডি যেখানে তদন্ত করছে, যেখানে তারা তল্লাশি চালাচ্ছে, সেখানে কেন মুখ্যমন্ত্রী প্রবেশ করবেন? আর কেনই বা সেখান থেকে তথ্য প্রমাণ এবং বিভিন্ন নথিপত্র নিয়ে আসা হবে? যদিও বা মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন যে, তার দলের নথি পাচার করার চেষ্টা হচ্ছিল, সেই কারণে তিনি দলীয় নেত্রী হিসেবে সেখানে গিয়েছেন এবং সেই নথি নিয়ে এসেছেন। তবে এখানেই প্রশ্ন যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যখন তদন্ত করছে, তখন একজন মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক পদে থেকে কি এইরকম কাজ করতে পারেন? আর যদি তিনি দলীয় নেত্রী হিসেবেই সেখানে যাবেন, তাহলে তার সঙ্গে কেন মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে অন্যান্য পুলিশ কর্তাদের সেখানে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল? এটা কি আইন বিরুদ্ধ কাজ নয়? স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কবে পদক্ষেপ নেবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। ইতিমধ্যেই খবর এসেছে যে, গতকালই সুপ্রিম কোর্টে ইডির পক্ষ থেকে জোড়া পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। আর সেখানেই তিনি যে সমস্ত বক্তব্য রেখেছেন, তাতেই স্পষ্ট যে, এবার মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে যে সমস্ত প্রশাসনিক কর্তারা নিজেদের পদের অপব্যবহার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই তদন্তে বাধা দিয়েছেন এবং সেখানে গিয়ে নথি নিয়ে এসেছেন, তাতে যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাদেরকে কোনোমতেই ছেড়ে দেওয়া হবে না।
ইতিমধ্যেই সকলেই জেনে গিয়েছেন যে, ইডির পক্ষ থেকে যে তল্লাশি চালানো হয়েছে এবং সেখানে যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে অনেকে গিয়ে নথি নিয়ে এসেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেখানে তারা মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে একাধিক প্রশাসনিক কর্তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখানেই শেষ নয়, এবার পাওয়া গেল আরও বড় তথ্য। যেখানে জানা যাচ্ছে যে, মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্যের ডিজি রাজীব কুমার এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মার বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এক্ষেত্রে যখন তারা তল্লাশি চালাচ্ছিলেন এবং তারা তাদের কাজ করছিলেন, তখন সেখানে গিয়ে তাদের সেই কাজে বাধা দেওয়ার মত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এক্ষেত্রে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ সহকারে একটি ছবিও নিজেদের বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথম দিকে অনেকেই মনে করেছিলেন যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি কেন নীরব রয়েছে? তবে তারা যে এই সমস্ত তথ্য প্রমান জোগাড় করার জন্য কিছুটা সময় নিয়েছিল, তা এবার দিনের আলোর মত স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর এবার মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে তার কলকাতার পুলিশ কমিশনার যেভাবে সেখানে গিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে বাধা দিয়েছেন, তাতে তাদের যে এবার কোনোমতেই ছাড় দেওয়া হবে না, তা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া এবং এই সমস্ত বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই। স্বাভাবিকভাবেই যে তথ্য প্রমান ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান থেকে শুরু করে পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে, তাতে ইডির পক্ষ থেকে যে শাস্তির জোরদার দাবি করা হচ্ছে এবং সিবিআই তদন্তের দাবি করা হচ্ছে, সেই বিষয়ে শীর্ষ আদালত কি জানায়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।