প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- একসময় পুলিশকে বোম মারার কথা বলেছিলেন। তারপর কিছুদিন আগে জেল থেকে ফিরে আসার পর এক পুলিশ কর্তার মা, বউ তুলে তাকে ফোনে কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ করেছিলেন। আর পুলিশকে যিনি বিভিন্ন সময় টার্গেট করে একের পর এক মন্তব্য করেন, তাকে এই ধরনের কুমন্তব্যের পর আরও বেশি করে নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিরোধীদের কাছে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, তৃণমূলের যে নেতা যত বেশি কুৎসিত ভাষায় পুলিশকে আক্রমণ করবেন, ততই তাদের সুরক্ষিত করার দায়িত্ব নেবেন এই রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী। নিজের পুলিশের এত অপমান দেখেও তিনি সেই পুলিশ কর্মীদের পাশে দাঁড়াননি। কিন্তু সেই তৃণমূল নেতার পাশে দাঁড়িয়ে তাকে নিরাপত্তা দেওয়ার বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন। কিন্তু এবার কি বলবেন এই রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী? রাজ্যের বিরোধী দলের নেতারা কয়লা পাচারের মত গুরুতর অভিযোগে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে তো বটেই, এমনকি অনেক পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছিলেন। আর বিরোধীদের সুরেই সুর মিলিয়ে বেশ কিছু পুলিশের অফিসারও এই কয়লা পাচারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে বুঝিয়ে দিলেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল।
এতদিন বিরোধী নেতারা বলতেন যে, এই রাজ্যে কয়লা পাচার থেকে শুরু করে বালি পাচারের যে ঘটনা ঘটছে, তার সঙ্গে তৃণমূলের নেতারা তো বটেই, এমনকি বেশ কিছু পুলিশ কর্তারাও জড়িত আছেন। তারাও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে থেকে ওপর তলায় টাকা পাঠান। কিন্তু তৃণমূল এই সমস্ত অভিযোগকে গুরুত্বই দেয়নি। কিন্তু এবার কি বলবে রাজ্যের শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত? তাদের বীরভূম জেলার সর্বেসর্বা বলে পরিচিত অনুব্রত মণ্ডল যেভাবে পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে এই কয়লা পাচারের ঘটনায় প্রশ্ন তুললেন, তাতে কি কিছু বলার মত মুখ রয়েছে এই রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রীর? এবার কি তিনি অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন? তিনি বেশ কিছু পুলিশ সম্পর্কে এই ধরনের কথা বলে মুখোশ খুলে দেওয়ার কারণে কি বিপাকে পড়বে রাজ্যের শাসক দল? প্রশ্ন তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু ঠিক কি বলেছেন অনুব্রতবাবু?
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বীরভূম জেলার তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। আর সেখানেই বীরভূম জেলার এসপিকে তিনি নাকা চেকিং করার কথা বলেছেন বলে জানান। আর এর কারণ হিসেবে তিনি যে কথা উল্লেখ করলেন, তা মারাত্মক। অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “আমি তো এসপিকে বলার পর নাকা চেকিং করেছে। আমাকে তো গ্রাম গঞ্জের মানুষ খবর দিয়েছে, রামপুরহাট দিয়ে ঢুকছে, মহম্মদ বাজার দিয়ে ঢুকছে, সিউড়ি হয়ে ঢুকছে। হাতের যেমন পাঁচটা আঙুল সমান নয়, কিছু পুলিশ তো নোংরামির সঙ্গে জড়িত আছেই। তা না হলে আমি এসপিকে বললাম কেন? এসপি নিশ্চয়ই দেখছে। নাকা চেকিংও করছে।” আর এখানেই বিরোধীরা বলছেন, এতদিন অনুব্রত মণ্ডল স্থানীয় পুলিশ কর্তাদের কুকথা বলেছেন, বোম মারার কথা বলেছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হয়নি। বরঞ্চ তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। কিন্তু এবার একেবারে আসল জায়গায় ঢিলটা মেরেছেন অনুব্রতবাবু। ফলে এবার কিন্তু রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রী তার ওপর বেজায় চটে যেতে পারেন। একেই তো সামনে বিধানসভা নির্বাচন। তার মধ্যে প্রতিনিয়ত বিরোধীরা অভিযোগ করে যে, কয়লা পাচারের টাকা তৃণমূলের ওপর মহল পর্যন্ত যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই সেই কয়লা পাচার নিয়ে যেভাবে পুলিশের একাংশকে দায়ী করে বসলেন বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল, তাতে কিন্তু সরাসরি অস্বস্তি বাড়বে এই রাজ্যের পুলিশ মন্ত্রীর। স্বাভাবিকভাবেই সেই অস্বস্তিকে ঢাকতে তিনি এবার অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেন কিনা, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।