প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
প্রথম দিন থেকেই এসআইআর প্রক্রিয়াকে বানচাল করার একটা চেষ্টা শুরু করেছে এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশন অন্যান্য রাজ্যেও এসআইআর করছে। কিন্তু সব থেকে বেশি অশান্তি এবং জটিলতা তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে এই পশ্চিমবঙ্গে। কারণ এখানকার সরকার খুব ভালো মতই জানে যে, অবৈধ ভোটার এবং ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ গেলে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকবে না। তাই যেভাবেই হোক, এসআইআরকে আটকানোর জন্য এবং গোটা প্রক্রিয়াকে ভন্ডুল করার জন্য তারা একটা জটিলতা প্রথম দিন থেকেই তৈরি করার চেষ্টা করছে। অন্তত তেমনটাই অভিযোগ বিরোধীদের। এমনকি এই এসআইআরকে আটকানোর জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে ছুটে গিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তারা। ইতিপূর্বেই বেশ কয়েক দফায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়েছে। আর আজ শুনানিতে বাংলায় এসআইআর নিয়ে যে সমস্ত সমস্যা নজরে এসেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এক কথায় ব্যতিক্রমী নির্দেশ দিয়ে দিলো সুপ্রিম কোর্ট। এর আগে বিহারেও এসআইআর হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের ক্ষেত্রে যেভাবে কমিশন এবং রাজ্যের মধ্যে দোষারোপের খেলা চলছে, তাতে প্রবল অসন্তুষ্ট দেশের শীর্ষ আদালত। আর তার পরিপ্রেক্ষিতেই এবার বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের গোটা ব্যবস্থায় কাজে লাগানোর কথা জানিয়ে দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি।

আজ পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিলো সুপ্রিম কোর্টে। এর আগের দিন বেশ কিছু নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে আজ সেই শুনানিতে দুই পক্ষের কথা শুনে প্রবল অসন্তুষ্ট শীর্ষ আদালত। তাই বাধ্য হয়ে এবার আদালতের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগ করে গোটা ব্যবস্থা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। এমনকি সেই সমস্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা যে নির্দেশ দেবেন, সেটা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ হিসেবেই গণ্য হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতের পক্ষ থেকে। আর এখানেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এতদিন কমিশনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে গোটা প্রক্রিয়াকে বাধা দেওয়ার সব রকম চেষ্টা এই রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল। কিন্তু এবার একেবারে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে যখন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের দিয়েই গোটা ব্যবস্থায় নজর রাখার কথা জানিয়ে দেওয়া হলো, তখন বেশি বাড়াবাড়ি করতে গেলে এবং এসআইআর প্রক্রিয়াকে আটকাতে গেলে প্রবল বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হবে সেই সমস্ত ব্যক্তিদের বলেই মনে করা হচ্ছে। সে রাজ্য হোক কিংবা কমিশন, যার ভুল দেখতে পাওয়া যাবে, এবার কিন্তু তাদের যে সুপ্রিম কোর্ট রেয়াত করবে না, তা আজ আদালতের এই পদক্ষেপ এবং নির্দেশের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্রের খবর, এদিন সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। আর সেখানেই বেশ কিছু নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। আদালতের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর নিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা একেবারেই ব্যতিক্রমী। রাজ্য পুলিশের ডিজি, সংশ্লিষ্ট জেলা শাসক, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে বিশেষ দায়িত্বে থাকবেন। এক্ষেত্রে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করা হবে, যাতে প্রত্যেকটি জেলায় কয়েকজন বর্তমান বিচারক অফিসার এবং অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা বিচারক নিয়োগ করা হয়। তারাই এই তথ্যগত অসঙ্গতি, যা নিয়ে এত প্রশ্ন উঠছে, সেই বিষয়টি যাচাই করে দেখবেন। অর্থাৎ এতদিন এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় কমিশন এবং রাজ্য, দুজনের ওপরেই ভরসা রেখেছিলো শীর্ষ আদালত। কিন্তু এত প্রশ্ন যখন উঠছে, তখন একেবারে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ওপরেই গোটা বিষয়টি ছেড়ে দিয়ে রাজ্য এতদিন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললেও, এবার কোনো ভুল প্রশ্ন তোলার সুযোগ যে এই সমস্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে থাকবে না, তা স্পষ্ট হয়ে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।