প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোট মিটলেও উত্তেজনা থামার নাম নেই। গতকাল রাতে দক্ষিণ কলকাতার শাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস হাইস্কুলের স্ট্রং রুমের সামনে যে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিয়ে এবার কড়া পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘক্ষণ সেখানে বসে থাকা এবং বিজেপি-তৃণমূল সংঘাতের ঘটনায় আজ জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরে।
গতকাল রাতভর শাখাওয়াৎ মেমোরিয়ালের বাইরে টানটান উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সেখানে পৌঁছে যান। তাঁর অভিযোগ ছিল, স্ট্রং রুমের ভেতর সন্দেহভাজন গতিবিধি দেখা গিয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেখানে তৃণমূল এবং বিজেপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়।
আজ দক্ষিণ কলকাতার DEO যে রিপোর্টটি জমা দিয়েছেন, তাতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কতক্ষণ স্ট্রং রুমের বাইরে ছিলেন এবং কেন তিনি সেখানে গিয়েছিলেন, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাতেই CEO দপ্তর জানিয়েছিল যে, তৃণমূলের তোলা অনিয়মের অভিযোগের কোনো ভিত্তি মেলেনি। আজকের রিপোর্টেও সিসিটিভি ফুটেজ এবং লগবুকের তথ্য খতিয়ে দেখে একই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। দুই পক্ষের বিবাদের সূত্রপাত কীভাবে এবং নিরাপত্তার কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা রিপোর্টে স্পষ্ট করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কাছে এই রিপোর্ট জমা পড়ার পর থেকেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। যেখানে কমিশন স্পষ্ট বলছে যে অনিয়মের প্রমাণ নেই, সেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ধরনায় বসা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের দাবি, ইভিএমের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই নেত্রী নিজে রাস্তায় নেমেছিলেন। এখন দেখার, এই রিপোর্টের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন পরবর্তীকালে কঠোর কোনো নির্দেশিকা জারি করে কি না। তবে শাখাওয়াৎ মেমোরিয়ালের এই ঘটনা যে বাংলার ভোট পরবর্তী রাজনীতির ইতিহাসে এক বড় বিতর্ক হয়ে রয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।