প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি প্রতীক জৈনের বাড়িতে এবং আইপ্যাকের অফিসে যখন তল্লাশি চালাচ্ছিলেন, তখন সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখান থেকে একাধিক নথি নিয়ে এসেছেন তিনি। তিনি আবার দাবি করেছেন যে, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, তিনি তৃণমূল কংগ্রেস দলের চেয়ারপার্সন হিসেবেই সেখানে গিয়েছেন তার দলের নথি নিয়ে আসার জন্য। কারণ সেই নথি পাচার করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী যদি সেখানে তৃণমূল নেত্রী হিসেবে গিয়ে থাকে, তাহলে তার সঙ্গে কেন একাধিক পুলিশ কর্তা থেকে শুরু করে অন্যান্যরা সেখানে গিয়েছিলেন সেই বিষয়টি নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। আর সেই বিষয়টি তুলে ধরেই এবার শুধু মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, যে অফিসাররা এবং সরকারি আধিকারিকরা তার সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন এবং এই নথি তদন্ত চলাকালীন, তল্লাশি চলাকালীন সেখান থেকে নিয়ে এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেই দাবি করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
সম্প্রতি এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইডির তল্লাশি চলাকালীন যে কান্ড ঘটিয়েছেন, যেভাবে তিনি আইপ্যাকের অফিসে এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্যের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। সকলের একটাই প্রশ্ন যে, মুখ্যমন্ত্রী এখন বলছেন, তিনি তৃণমূল নেত্রী হিসেবে সেখানে তার দলের নথি উদ্ধার করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেটাই যদি তিনি গিয়ে থাকবেন, তাহলে কেন তার সঙ্গে প্রশাসনিক আধিকারিকরা সেখানে গিয়েছিলেন? এতে কি সেই সমস্ত প্রশাসনিক আধিকারিকরা নিয়ম ভঙ্গ করেননি? তাহলে কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যখন তদন্ত করছেন, তখন এই রকম আচরণ কি প্রশাসনিক পদে থেকে করা যায়? আর এই সমস্ত বিষয় নিয়ে যখন চর্চা চলছে, ঠিক তখনই বড় মন্তব্য করে বসলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। আর সেখানেই তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী সংবিধান বিরোধী কাজ করেছেন। এটা অন্যায় এবং বাঙ্গালীদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। আমার মনে হয়, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত। আর তার সাথে সাথে যে সমস্ত অফিসাররা সেখানে গিয়েছিলেন, অনেক অফিসারকে দেখলাম ফাইল নিয়ে ছুটে ছুটে চলে আসছেন। যেন লুটের রাজত্ব চলছে। যেন ত্রান শিবির চলছে ওখানে। এই সমস্ত অফিসারকে আইনের আওতায় আনতে হবে। মমতা ব্যানার্জি নিজের পিঠ বাঁচানোর জন্য কোর্টে গিয়ে বলছেন, আমি তৃণমূল নেত্রী হিসেবে গিয়েছিলাম। তাহলে এই সমস্ত অফিসাররা কেন গিয়েছেন? এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”