প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা মুখে অনেক বড় বড় কথা বলেন। তারা নাকি প্রচুর কাজ করে দিয়েছেন, তারা নাকি মানুষের সঙ্গে আছেন। কিন্তু তারা যদি এতই জনসংযোগ করে থাকে, তাহলে বিরোধীদের কর্মসূচিতে পুলিশ দিয়ে বাধা দিতে হয় কেন এই রাজ্যের শাসক দলকে? কেন সব থেকে বেশি পুলিশ নির্ভর হয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস? এই প্রশ্ন বিরোধীদের মধ্যে থেকেই উঠতে শুরু করেছে। আর এবার তৃণমূল কংগ্রেস, যারা নিজেদের এত জনপ্রিয় দল বলে দাবি করে, তাদের দিকেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে পুলিশ ছাড়া এক দিনও পথ চলার ক্ষমতা দেখাক এই রাজ্যের শাসকদল বলে তাদের হিম্মত দেখতে চাইলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ বহু আশা নিয়ে ২০১১ সালে পরিবর্তন ঘটিয়ে তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছিল। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর যেভাবে তিনি বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করেছেন, যেভাবে তিনি প্রতিবাদীদের প্রতিবাদী সত্তাকে কেড়ে নিয়েছেন, যেভাবে তিনি পুলিশকে ব্যবহার করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলার কাজে সেই পুলিশকে ব্যবহার না করে শুধুমাত্র প্রতিবাদীদের কর্মসূচিতে বাধাদান করা থেকে শুরু করে বিরোধীদের কর্মসূচি আটকানোর ক্ষেত্রে সেই পুলিশকে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে বারবার করে প্রশ্ন উঠেছে। আর এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল যখন একটি রাজনৈতিক দল, তখন তারা রাজনৈতিকভাবে লড়াই করুক। কেন তারা পুলিশকে ব্যবহার করছে? ক্ষমতায় থেকে কেন পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর দমন করা হচ্ছে? যদি তৃণমূল এতই জনপ্রিয় দল হবে, তাহলে তারা কেন পুলিশকে সরিয়ে রেখে রাজনীতি করতে পারছে না? কেন বিরোধীদের চোখে চোখ রেখে তারা কথা বলতে পারছে না? এবার সেই প্রশ্ন তুলে দিয়েই পুলিশ নির্ভর রাজনীতি না করে তৃণমূলকে একা পথ চলার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন কাঁথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে পরিবর্তন সংকল্প সভার আয়োজন করা হয়। আর সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে যে পুলিশ নির্ভর রাজনীতি তৃণমূল কংগ্রেস শুরু করেছে, যেভাবে পুলিশ দিয়ে তারা বিরোধীদের মিথ্যে মামলা দিচ্ছে, তাতে পুলিশ যদি তৃণমূলের কাছ থেকে সরে যায়, তাহলে এদের একটি নেতারও অস্তিত্ব বলে কিছু থাকবে না এবং মানুষের কাছে তারা কিভাবে প্রত্যাখ্যাত হবেন, বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সেই বিষয় তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “যাকে সেদিন আমরা দিদি বলতাম, তিনি দিদিমা হয়ে যেতেন। মুখ্যমন্ত্রী জীবনে হতে পারতেন না। পুলিশটা সরিয়ে নেন না। পুলিশ সরিয়ে নেন, আপনাদের বাড়ি থেকে গিয়ে লোক ইঁট খুলে নিয়ে আসবে। কারণ আপনারা এত অপকর্ম করেছেন।” অর্থাৎ পুলিশ আছে জন্যই এখন তৃণমূল নেতারা সুরক্ষিত এবং পুলিশকে ব্যবহার করেই তারা এত দাপাদাপি করছে। কিন্তু সেই পুলিশ নিরপেক্ষ হয়ে গেলে যে তৃণমূলের সমস্ত ফুটানি বন্ধ হয়ে যাবে এবং তাদের এই দাপাদাপি যে শেষ হয়ে যাবে, আত্মবিশ্বাসের সহকারে সেই কথা তুলে ধরে পুলিশ ছাড়া রাজনীতি করার ক্ষমতা কতটা তৃণমূলের রয়েছে, তার হিম্মত দেখতে চাইলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।