প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতার দম্ভ যেখানে শেষ হয়, আইনের হাত ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয়— রাজনৈতিক মহলে এখন এটাই সবথেকে বড় গুঞ্জন। আর কলকাতা হাইকোর্টের সেই কড়া চাবুক না পড়লে যে প্রাক্তন ‘যুবরাজ’ সিআইডি (CID) দপ্তরে পা-ই দিতেন না, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের একটি চাঁছাছোলা বক্তব্যেই যেন সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। কথা খোলসা করে বলা যাক। পরপর তিনবার তলব এড়ানো, শারীরিক অসুস্থতার অজুহাত, কিংবা দিল্লি টু কলকাতা ফ্লাইটের সময়সূচীর দোহাই— কোনো কিছুই শেষ পর্যন্ত কাজে এলো না। কেন? কারণ মহামান্য হাইকোর্ট যখন স্পষ্ট ভাষায় ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে বলল— “বিকেল ৬টার মধ্যে ভবানী ভবনে হাজিরা দিতেই হবে”, তখনই পরিষ্কার হয়ে গেল যে আইনের বাধ্যবাধকতা এড়ানোর আর কোনো রাস্তা খোলা নেই। জনগণের মনে এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— দেশের আইন রক্ষাকারী সংস্থা যখন বারবার ডাকছিল, তখন কেন এত গড়িমসি? তদন্তের মুখোমুখি হতে এত টালবাহানা কেন?

বিধায়কদের সই জালের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং গুরুতর অভিযোগের তদন্তে একজন জনপ্রতিনিধির কি উচিত ছিল না প্রথম দিনই গিয়ে তদন্তকারীদের সহযোগিতা করা? নাকি বিগত আমলে ক্ষমতার অলিন্দে বসে ভাবা হয়েছিল যে আইনের ঊর্ধ্বে থাকা যায়? কিন্তু আদালত এবং রাজ্যের বর্তমান ডবল ইঞ্জিন সরকারের নতুন জমানায় পরিষ্কার হয়ে গেল— আইন সবার জন্য সমান। রাজা হোক বা প্রজা, তদন্তের স্বার্থে হাজিরা দিতেই হবে।

আজ যদি আদালত এই কড়া অবস্থান না নিত, যদি সময়সীমা বেঁধে না দিত, তবে কি সত্যিই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানী ভবনে যেতেন? কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের তোলা এই প্রশ্নটিকে তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই উড়িয়ে দিতে পারছেন না। বিরোধী শিবিরের একাংশ তো মনেই করছে, আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলে হয়তো আজও ভবানী ভবনের বদলে তৃণমূলের ওই নেতাকে দেখা যেত অন্য কোনো ভিভিআইপি ঠিকানায়। সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার এই ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ কিন্তু কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, এটা আইনের স্বাভাবিক গতি বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিগত শাসনের আমলের এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের শিকড় কতদূর গভীরে পৌঁছেছে, সেটাই এখন দেখার। আমজনতা চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে— তদন্তের জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়!