প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর ঐতিহাসিক পালাবদলের পর এবার কি তবে সম্পূর্ণ বিলুপ্তির পথে তৃণমূল কংগ্রেস? বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর এবার খোদ দলের অন্দর থেকেই উঠল সেই বিস্ফোরক আওয়াজ। তৃণমূলের অগণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং নেতৃত্বের অহংকার নিয়ে এবার বোমা ফাটালেন খোদ সদ্য পদত্যাগী প্রবীণ নেতা তথা সদ্যপ্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। দল ও সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর তাঁর সাফ দাবি, আর জি কর কাণ্ডের গণবিস্ফোরণের সময়ই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন এই দলের বিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। এমনকি হারের পর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ‘অহংকারী’ মুখ দেখে তাঁর স্পষ্ট উপলব্ধি— আগামী দিনে ২-১ জন ‘চাকর-বাকর’ ছাড়া এই দলে আর কেউ থাকবে না!

নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কাটাছেঁড়া চলছে। কিন্তু দলত্যাগী সুখেন্দুশেখর রায় যা বললেন, তা কার্যত এই ক্ষীয়মাণ রাজনৈতিক দলটির কফিনে শেষ পেরেক পোঁতার শামিল। প্রবীণ এই নেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আর জি কর কাণ্ডের সময় যেভাবে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন, তখনই তিনি টের পেয়েছিলেন তৃণমূলের পতন আসন্ন। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের আগেই তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, এ বারের নির্বাচনে বিজেপি অন্তত ১৮০ থেকে ২০০টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে।বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে সম্প্রতি তৃণমূলের যে ‘পোস্টমর্টেম’ বা পর্যালোচনা বৈঠক ডাকা হয়েছিল, সেখানে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঔদ্ধত্যকে কাঠগড়ায় তুলেছেন সুখেন্দুশেখর বাবু। তাঁর দাবি, বৈঠকে উপস্থিত শীর্ষ নেতৃত্বের মুখের ভাব দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, তারা ক্ষমতা হারানোর পরেও মানুষের এই ঐতিহাসিক রায়কে মেনে নিতে পারছে না, বরং চরম ঔদ্ধত্যের সাথে তাকে অস্বীকার করছে।

সবচেয়ে মারাত্মক অভিযোগটি তিনি এনেছেন দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও একনায়কতন্ত্র নিয়ে। দল থেকে সম্পূর্ণ সংস্রব ছিন্ন করার পর সুখেন্দুশেখর রায় চাঁছাছোলা ভাষায় বলেন, “২-১ জন চাকর-বাকর ছাড়া সবাই দল ছেড়ে চলে যাবে। কারণ, দিনের পর দিন প্রত্যেকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুখেন্দুশেখর রায়ের দলত্যাগ এবং এই ক্ষোভ আসলে তৃণমূলের অন্দরে জমে থাকা বহুদিনের লাঞ্ছনার বহিঃপ্রকাশ। পিসি-ভাইপোর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে যেভাবে প্রবীণ নেতাদের কোণঠাসা করে তোলা হয়েছিল, তারই ফল ভুগতে হচ্ছে আজ তাদের। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর দলের এই শীর্ষস্তরের ভাঙন ও বিদ্রোহ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বাংলায় স্বৈরাচারের দিন শেষ এবং আগামী দিনে এই দলটির রাজনৈতিক অস্তিত্বই হয়ত চিরতরে বিপন্ন হতে চলেছে।