প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিগত ১৫ বছরের কয়লা পাচার, বালি পাচার থেকে শুরু করে কোটি কোটি টাকার তোলাবাজির অভিযোগের কি এবার চূড়ান্ত তদন্ত হতে চলেছে? তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার পরেই দলটির পূর্বতন শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করছেন প্রবীণ নেতা তথা সদ্য প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। এবার সরাসরি তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়কে কেন্দ্র করে চলা পুলিশি তদন্তের প্রেক্ষাপট টেনে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সঠিক তদন্ত হলে এই চক্রের জড়িতদের জীবনের অর্ধেক সময় জেলেই কাটাতে হতে পারে!

সূত্রের খবর, জমি সংক্রান্ত বিষয় এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার পুলিশ এই তদন্তের সূত্রে কালীঘাটে তল্লাশিও চালিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপি অভিযোগ তুলছিল যে, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কোটি কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন হয়েছে। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পুলিশি তৎপরতা বাড়তেই এবার সেই সমস্ত অভিযোগের ঢাকনা খোলার উপক্রম হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং আরজি কর কাণ্ডের জেরে ক্ষোভে কিছুদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দু শেখর রায়। দল ছাড়তেই তাঁর সামাজিক মাধ্যমের পাতায় উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য। পূর্বতন জমানার এই দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগগুলিকে সরাসরি ‘পাপচক্র’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অভিষেকের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে চলা তদন্তের প্রেক্ষাপট টেনে সুখেন্দু শেখর রায় লিখেছেন, “গত ১৫ বছরে বাংলায় যে পাপচক্র তৈরি হয়েছিল, তাদের নেতৃত্বে ছিলেন যে, সঠিকভাবে তদন্ত শুরু হলে বালিপাচার, কয়লা পাচার এবং তোলাবাজি, তদন্ত হচ্ছে, এরকম সমস্ত কিছুর তদন্ত হলে, সারাজীবনের অর্ধেক জীবন জেলে কাটাতে হবে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, সুখেন্দু শেখর রায়ের মতো প্রবীণ ও বিচক্ষণ নেতার মুখ থেকে এই ধরণের মন্তব্য বের হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি নেতৃত্ব যে সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ তুলছিল, আজ তৃণমূলের অন্দর থেকে আসা এই বয়ান যেন তাকেই আরও জোরালো করল। আপাতত নিজের আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে চলা তদন্ত ও প্রবীণ নেতার এই বেনজির আক্রমণের জেরে রাজনৈতিকভাবে বেশ চাপে বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব।