প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে কোনো কিছুই অকারণ ঘটে না, আর সৌজন্যের আড়ালে যে অনেক সময়ই নতুন সমীকরণের সলতে পাকানো হয়—সেটা আরও একবার প্রমাণ করল আজকের এই হাইভোল্টেজ সাক্ষাৎ। একদিকে নবনির্বাচিত ডাবল ইঞ্জিন সরকারের বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, আর অন্যদিকে সদ্যই তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ এবং রাজ্যসভার সাংসদ পদ ত্যাগ করা প্রবীণ নেতা সুখেন্দু শেখর রায়। হাসপাতালে ভর্তি থাকা শমীক বাবু সদ্য বাড়ি ফিরেছেন, আর ঠিক এই মোক্ষম সময়েই তাঁর ড্রয়িংরুমে হাজির স্বয়ং সুখেন্দু বাবু!
বাইরে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে সুখেন্দু বাবু যতই বলুন, “উনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, অসুস্থ ছিলেন, তাই একজন সাধারণ মানুষের মতো দেখা করতে এসেছিলাম।”—সাধারণ মানুষ কিন্তু এই তত্ত্ব এত সহজে গিলছে না। প্রশ্ন উঠছে, বঙ্গে যখন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ঐতিহাসিক ভরাডুবি ঘটেছে, যখন আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে একাধিক দুর্নীতি ইস্যুতে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ উগরে দিয়ে সপাটে ইস্তফা দিয়েছেন সুখেন্দু বাবু, তখন হঠাৎ এই ‘অসুস্থতা’র খোঁজ নিতে নতুন শাসকদলের শীর্ষ নেতার বাড়িতেই কেন ছুটতে হলো তাঁকে?
বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহল এবং ওয়াকিবহাল মহলের স্পষ্ট দাবি—এই সাক্ষাৎ কেবলই ‘শারীরিক খোঁজখবর’ নয়। আরজি কর ইস্যুতে নিজের দলের অবস্থানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সুখেন্দু শেখর রায় যে সততার পরিচয় দিয়েছিলেন এবং যেভাবে দলের ভরাডুবির পর চরম আত্মসমীক্ষাহীনতার অভিযোগ তুলেছিলেন, তাঁর এই পদক্ষেপ কি তারই পরবর্তী স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা? মুখে ‘সৌজন্য’ আর মনে ‘রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি’—আজকের এই সাক্ষাৎকার কি তবে নতুন বিজেপি সরকারের জমানায় বাংলায় কোনো নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের রূপ নিতে চলেছে? এখন জল কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার।