প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বছরের শেষেই এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক মেগা কর্মসূচির সাক্ষী হতে চলেছে তিলোত্তমা কলকাতা। গতকাল, রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত একটি সুবিশাল আধ্যাত্মিক সমাবেশে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বড় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আগামী ২৯ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে কলকাতার বুকে এক ঐতিহাসিক ‘১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের’ সুবিশাল মেগা কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। এই মেগা ইভেন্টকে সফল করতে ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে জোরকদমে মহাপ্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, কলকাতার এই ঐতিহাসিক ধর্মীয় মহাসমাগমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত।
নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে এক অত্যন্ত জোরালো ও কড়া বার্তা দেন। বিগত রাজনৈতিক জমানার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী অভয় দিয়ে বলেন, “মৌসম বদলেছে, জমানাও বদলে গেছে। জমানা বদলে গেছে, এখন গীতাপাঠ করুন, মনে কোনও ভয় নেই।” বর্তমান প্রশাসনকে ‘সনাতনী ঐতিহ্যের সুরক্ষাকারী সরকার’ বলে অভিহিত করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, রাজ্যে এখন স্বাধীনভাবে ধর্ম চর্চা ও আধ্যাত্মিক প্রচার করার সম্পূর্ণ পরিবেশ রয়েছে।
বাগেশ্বর বাবা (ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী)-র ছবি পোড়ানো ও সনাতন ধর্মের সাধু-সন্তদের অবমাননার চেষ্টার তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমান রাজ্য সরকারের কঠোর মনোভাব স্পষ্ট করে শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানান, “সাধু-সন্তরা স্বাধীন দেশে সনাতনী ধর্মের প্রচার করবেনই। যারা বাগেশ্বর বাবার ছবি পুড়িয়েছিল, তাদের পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে। এই বাংলায় সাধু-সন্তদের ভয় দেখালে বা অপমান করলে এখন সরাসরি জেলে যেতে হবে।”
২৯ ডিসেম্বরের এই ১০ লক্ষ মানুষের মেগা ইভেন্ট ছাড়াও আগামী বছরের শুরুতেই আরও বড়সড় আধ্যাত্মিক জমায়েতের ব্লু-প্রিন্ট পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথিতে গঙ্গাসাগরে আসছেন জগৎগুরু স্বামী রামভদ্রাচার্য। এর পাশাপাশি জানুয়ারি মাসেই কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে কেন্দ্র করে আরও একটি বড় ধর্মসভার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, বর্তমান সরকারের অধীনে বাংলায় সনাতনী সংস্কৃতির প্রসার ও সুরক্ষায় প্রশাসন যে অত্যন্ত সক্রিয়, মুখ্যমন্ত্রীর এই নজিরবিহীন মেগা ঘোষণা থেকেই তা পরিষ্কার।