প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-এক নতুন ভোরের সাক্ষী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং দীর্ঘ টালবাহানার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের জন্য এক ঐতিহাসিক স্বাস্থ্য বিপ্লবের সূচনা হতে চলেছে। নবান্ন থেকে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে আজ এক যুগান্তকারী ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী জুলাই মাস থেকেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে দূরদর্শী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat)।দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির সঙ্গে কোল্ড ওয়ারের জেরে যে কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন বাংলার কোটি কোটি মানুষ, আজ নবান্নে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে অত্যন্ত সফল একটি শীর্ষ বৈঠকের পর সেই অচলাবস্থা কাটল। “এক দেশ, এক স্বাস্থ্য” (One Nation, One Health) নীতির পথে হেঁটে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজানোর এই ঐতিহাসিক মাস্টারস্ট্রোককে ঘিরে ইতিমধ্যেই গোটা রাজ্যে চরম উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই বিপুল কর্মযজ্ঞের প্রথম ভাগেই রাজ্যের এক বিশাল অংশের মানুষকে সুরক্ষাকবচ দেওয়া হবে। রাজ্যের বর্তমান ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডের আওতায় থাকা প্রায় ৬ কোটি মানুষকে প্রথম দফাতেই সরাসরি ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের মহাজোটের আওতায় আনা হচ্ছে। আগামী জুলাই মাস থেকেই উপভোক্তাদের হাতে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কার্ড তুলে দেওয়ার কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হবে। প্রথম দফায় ৬ কোটি মানুষ এই সুবিধা পেলেও, অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পরবর্তী ধাপে এই উপভোক্তার সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে, যাতে রাজ্যের একটি পরিবারও এই সুরক্ষা থেকে বাদ না পড়ে। যাঁরা এতদিন কোনও প্রকল্পের সুবিধা পাননি বা সম্পূর্ণ নতুনভাবে এই বিশ্বমানের স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আসতে চান, তাঁদের জন্য থাকছে একটি সরলীকৃত বিকল্প আবেদন ব্যবস্থা।
বিগত সরকারের একগুঁয়েমি ও রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে বাংলার মানুষ এতদিন রাজ্যের কয়েকটি নির্দিষ্ট হাসপাতালের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। কিন্তু নবান্নের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে খুলে গেল এক বিরাট দিগন্ত। স্বাস্থ্যসাথীর অধীনে যেখানে মাত্র প্রায় ২,৮০০টি হাসপাতাল যুক্ত ছিল, সেখানে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলার মানুষ দেশজুড়ে প্রায় ৩৬,০০০টি প্রথম সারির হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশ্বমানের চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন ভিনরাজ্যে কর্মরত বাংলার লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। কর্মসূত্রে তাঁরা ভারতের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, অসুস্থ হলে মোদী সরকারের এই কার্ড দেখিয়ে ওখানেই সেরা চিকিৎসা পাবেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
শুধুমাত্র আশ্বাস নয়, একেবারে নিরেট হিসেব ও পরিকল্পনা পেশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ভেঙে পড়া চিকিৎসা পরিকাঠামোকে পুনরুুদ্ধীবিত করতে কেন্দ্রের মোদী সরকার এক লপ্তে ৩,০০০ কোটি টাকার বিরাট আর্থিক অনুমোদন দিয়েছে। এই বিশাল বরাদ্দের প্রথম কিস্তির ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের তরফ থেকে রাজ্যের রাজকোষে এসে পৌঁছেছে। এই ফান্ডের মধ্যে ‘ন্যাশনাল হেলথ মিশন’ (NHM)-এর অধীনে ২,১০৩ কোটি টাকা এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের জন্য ৯৭৬ কোটি টাকা সরাসরি ব্যয় করা হবে গ্রামীণ ও নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে।
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও বেশ কিছু জনমুখী প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন, যা এক ধাক্কায় রাজ্যের স্বাস্থ্যচিত্র বদলে দিতে চলেছে।আগামী ৩০ মে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী নিজে এক ঐতিহাসিক কর্মসূচির সূচনা করতে চলেছেন। রাজ্যের প্রায় ৭ লক্ষ কিশোরী ও মহিলাকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই মারণ রোগের প্রতিষেধক দেওয়া হবে। কেন্দ্রের ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের হাত ধরে এবার থেকে সাধারণ মানুষ দুরারোগ্য ব্যাধির অত্যন্ত ব্যয়বহুল ওষুধ ক্রয়ের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সরাসরি ছাড়ের অভাবনীয় সুবিধা পাবেন।রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে ডাক্তার ও নার্সিং কর্মীদের শূন্যপদ পূরণে আগামী ৩ মাসের মধ্যে একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এর পাশাপাশি কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও দক্ষিণ দিনাজপুরে নতুন মেডিক্যাল কলেজ চালুর কাজ দ্রুত শেষ করার ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ নবান্নের প্রেস কনফারেন্স থেকে বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “আগের সরকার শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে এবং কেন্দ্রের সঙ্গে অনর্থক বিরোধিতা করতে গিয়ে বাংলার মানুষকে এই শ্রেষ্ঠ সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল।” রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই পদক্ষেপের পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের জনমোহিনী নীতি এবং কেন্দ্রীয় সহযোগিতার সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে শুরু করবে, যা আগামী দিনে রাজ্যের উন্নয়নে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।