প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক অভূতপূর্ব এবং ইতিবাচক মোড়। জরায়ুমুখের ক্যানসার (সার্ভাইকাল ক্যানসার) রুখতে এবার সরাসরি ময়দানে নামছে কেন্দ্র ও রাজ্য। আজ নবান্নে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের মহিলাদের সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৩০ মে থেকে রাজ্যজুড়ে বিনামূল্যে সার্ভাইকাল ক্যানসার প্রতিরোধী এইচপিভি (HPV) টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হতে চলেছে। বাংলার মা-বোনেদের মরণব্যাধি ক্যানসারের হাত থেকে বাঁচাতে মোদী সরকারের পাঠানো বিপুল পরিমাণ প্রতিষেধক রাজ্যজুড়ে পৌঁছে দেওয়ার এই মেগা মাস্টারপ্ল্যান ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার দেশের প্রতিটি প্রান্তের নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। তারই অঙ্গ হিসেবে ২০২৬ সালের গোড়ার দিকে দেশজুড়ে বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ প্রকল্প চালু করে দিল্লি। দেশের একাধিক রাজ্যে এই টিকাকরণ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এবার তা বাংলায় বাস্তবায়িত হতে চলেছে। বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গকে ৭ লক্ষেরও বেশি ভ্যাকসিনের ডোজ দিতে চায়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ এক ভার্চুয়াল বৈঠকের পরই এই বিশাল টিকাকরণ অভিযানের ব্লু-প্রিন্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বাংলার মেয়েদের ক্যানসারমুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে এই অভিযানের রূপরেখা অত্যন্ত সুচারুভাবে সাজানো হয়েছে। রাজ্যের ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সি কিশোরীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই মহামূল্যবান ক্যানসার প্রতিরোধী ভ্যাকসিন পাবে। আগামী ৩০ মে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে এই ঐতিহাসিক টিকাকরণ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হবে। ভ্যাকসিন দেওয়ার পর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক কিশোরীকে ৩০ মিনিট কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এছাড়া ডিজিটাল স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উপভোক্তাদের নাম কেন্দ্রীয় সরকারের ‘U-WIN’ পোর্টালে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

মহিলাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের এই বাস্তবায়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বাংলায় সার্ভাইকাল ক্যানসারের প্রকোপ কমাতে কেন্দ্রের পাঠানো এই ৭ লক্ষাধিক ডোজ গেম-চেঞ্জার প্রমাণিত হতে চলেছে। মরণব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দলমত নির্বিশেষে কেন্দ্র ও রাজ্যের এই সমন্বয়কে স্বাগত জানাচ্ছে আপামর জনসাধারণ। মোদী সরকারের এই উপহার বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে এখন কোমর বেঁধে নামছে প্রশাসন।