প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় শিল্পায়নের চাকা দ্রুত ঘোরাতে কয়েক দশকের পুরনো ‘জমি নীতি’ সম্পূর্ণ বদলে ফেলার ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ডানকুনিতে এক শিল্পোৎসবের মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিগত সরকারের ‘হাত গুটিয়ে বসে থাকার’ নীতি ঝেড়ে ফেলে এবার থেকে রাজ্য সরকার নিজেই সরাসরি কৃষকদের থেকে জমি কিনবে (Direct Land Purchase Policy)। সেই অধিগৃহীত জমি বেসরকারি শিল্পপতি ও বিভিন্ন পরিকাঠামোগত প্রকল্পের জন্য হস্তান্তর করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বড় ঘোষণার ফলে রাজ্যে সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রামের মতো জমি আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের স্থায়ী অবসান ঘটতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এদিনের মেগা অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জমি আর কোনো বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। কেন্দ্র সরকারের ২০১৩ সালের জমি নীতিকে মডেল করেই নতুন রাজ্য প্রশাসন এই পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। নতুন সরকারের এই ল্যান্ড পলিসির মূল রূপরেখা প্রকাশ করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, কোনো শিল্প সংস্থাকে আর সরাসরি জমি কেনার ঝক্কি পোহাতে হবে না। বদলে সরকার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করবে।

শিল্পপতিদের প্রয়োজন অনুযায়ী রাজ্য সরকার নির্দিষ্ট জমি চিহ্নিত করে সরাসরি মালিকদের থেকে কিনে নেবে এবং তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে লিজ বা হস্তান্তর করবে। জমির মালিকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় শহরের ক্ষেত্রে বাজারদরের দ্বিগুণ এবং গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের ৪ গুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের প্যাকেজ দেওয়া হবে। পুরনো আইনের জটিলতা ও সাড়ে ৭ কাঠার আইনি গেরো বা সিলিং পলিসিও এবার প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্কার করা হবে, যাতে বড় বড় কলকারখানা গড়তে কোনো আইনি বাধা না থাকে।

জমি নীতিতে বদলের পাশাপাশি লাল ফিতের ফাঁশ কাটানোরও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যে ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি টাকার যেকোনো বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি একক জানলা ব্যবস্থা বা ‘সিঙ্গল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স সিস্টেম’ চালু করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বড় শিল্পপতিদের আর স্থানীয় পঞ্চায়েত, পুরসভা বা জেলা পরিষদের দরজায় দরজায় অনুমতির জন্য ঘুরতে হবে না। নবান্নের সিঙ্গল উইন্ডো থেকেই মিলবে সমস্ত ছাড়পত্র।

মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিএসএফ (BSF)-এর কাঁটাতারের বেড়া, রেলওয়ে এবং জাতীয় সড়ক ও বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের জন্য যেভাবে জমি কেনা হয়েছে, ঠিক সেই সফল মডেলেই এবার বেসরকারি শিল্পের জন্যও জমির সমস্যা মেটানো হবে। সরকারের এই সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে গোটা রাজ্যের শিল্পমহল।